সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে পর্নতারকা ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সুমাইয়া সাঈদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে এক দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার কথিত প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। নথিতে তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং কনটেন্ট বিক্রির প্যাকেজের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট গ্রাহকদের সরবরাহ করা হতো। মামলার নথিতে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন মূল্যের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে পরে টেলিগ্রাম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় সুমাইয়ার অবস্থান শনাক্ত করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়। মামলার জব্দ তালিকাতেও মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের তথ্য রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া বেশ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন ওই সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তিনি মেয়ের কথিত অনৈতিক উপার্জনের বিষয়টি জানতেন এবং সেই অর্থ গ্রহণ করতেন। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা মামলার নথিতে স্পষ্ট নয়।
মামলার নথিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রচার ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং যোগাযোগের মাধ্যমের তথ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন কনটেন্টের ছবিও নথিতে সংযুক্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কীভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ ও বিতরণ করা হতো এবং এর আর্থিক লেনদেনের পরিধি কতটা—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

