ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়া। কাগজে-কলমে দুই দলের মধ্যকার এই ব্যবধান প্রকটভাবে ফুটে উঠল খেলার মাঠে। আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের পারফরম্যান্স হলো রীতিমতো ছন্নছাড়া। সেটার খেসারত দিয়ে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেল থমাস ডুলির শিষ্যরা।
শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গেলোরা বাং কার্নো স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ডিভিশন ওয়ানের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচের প্রথমার্ধে মালয়েশিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন উইঙ্গার আরিফ আইমান। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ফরোয়ার্ড বার্গসন। বিপরীতে, সব বিভাগেই হতাশ করা বাংলাদেশ দল খুঁজে নিতে পারেনি জালের ঠিকানা।
এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে তিন তরুণের। তারা হলেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফারহান আলী ওয়াহিদ ও জিদান ইউসুফ এবং জাপানে জন্ম নেওয়া শুকি ইতোফুসা। শুরুর একাদশে থাকা উইঙ্গার ফারহানকে প্রথমার্ধ শেষে উঠিয়ে নেন ডুলি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন উইঙ্গার শুকি ও ডিফেন্ডার জিদান। তবে কেউই উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।
বাংলাদেশের খেলায় ছিল না কোনো রকমের ছন্দ। ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। ফলে নিজেরা আক্রমণে ওঠার সুযোগ তেমন পায়নি বললেই চলে। ৭৬তম মিনিটে অবশ্য গোল পেতে পারত তারা। বদলি নামা শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। তবে তিনি দুই দফা শট নিলেও মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক হাজিক নাজলি সেগুলো রুখে দেন।
এর আগে বাংলাদেশের হজম করা প্রতিটি গোলেই ছিল রক্ষণভাগের কোনো না কোনো ভুল। চোটের কারণে তপু বর্মণ ও বিশ্বনাথ ঘোষের না থাকার ঘাটতি হাড়ে হাড়ে টের পায় তারা। সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদের সমন্বয়ে গড়া রক্ষণভাগ বারবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, সেন্টার-ব্যাক তপুর পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
১৮তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। লাইনা নুয়ার থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন আইমান। এরপর বাংলাদেশের ফেরার পথ কঠিন হয়ে যায় তপুর ভুলে। ৩৮তম মিনিটে ডি-বক্সের সামনে তিনি তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন। তা পেয়ে স্টুয়ার্ট উইলকিন পাস বাড়ান ডি-বক্সে। সেখানে ফাঁকায় থাকায় আইমানকে দ্বিতীয়বারের মতো জাল কাঁপাতে কোনো বেগ পেতে হয়নি।
বিরতির পর ফারহানের জায়গায় ইমন এবং ফাহামেদুল ইসলামের জায়গায় শুকি মাঠে ঢোকেন। তারপর ৫৯তম মিনিটে তারিকের পরিবর্তে জিদান ও শমিত সোমের পরিবর্তে শেখ মোরসালিনকে নামান আমেরিকান কোচ ডুলি। কিন্তু লাল-সবুজদের ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি।
বরং মাঝে ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় একরকম নিশ্চিত করে ফেলে মালয়েশিয়া। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শরীর ঘুরিয়ে নিচু শটে গোল করেন বার্গসন। বলে তেমন গতি না থাকলেও গোলরক্ষক শ্রাবণ তা আটকাতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের বাকি সময়ে সম্ভাবনা তৈরি হলেও আর কোনো গোল হয়নি।
একই মাঠে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

