কিউবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, তালিকায় রাউল কাস্ত্রোর ছেলে-নাতি

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর ছেলে ও নাতিও রয়েছেন। রাউল কাস্ত্রো এখন কোনো সরকারি পদে না থাকলেও কিউবার রাজনীতিতে তিনি এখনো বেশ প্রভাবশালী।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের স্ত্রী এবং সৎ ছেলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে কিউবার সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দিয়াজ-কানেল লেখেন, মার্কিন সরকারের এই আগ্রাসন আমাদের প্রতিরোধের কাছে হার মানবে। আমরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আঘাত রুখে দিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও লেখেন, এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার ওপর চলমান অবরোধকে আরও কঠোর করবে এবং দুই দেশের বিরোধকে আরও উসকে দেবে।

৬৬ বছর বয়সী দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সালে কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্যারিবীয় দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায়— কিউবা যেন ‘সুন্দরভাবে পরিচালিত একটি দেশ’ হয়।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ঘৃণ্য’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একে মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

রদ্রিগেজ বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যর্থ হতে বাধ্য।

১৯৬২ সাল থেকেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অবরোধের কবলে রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি কিউবার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্বীপরাষ্ট্রটি দখল করে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

গত মাসে মার্কিন সরকার কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, বেশ কয়েকজন সামরিক নেতা এবং দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট ১১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এ ছাড়া, ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনায় কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন কিউবার যুদ্ধবিমান নির্বাসিত কিউবানদের একটি সংগঠনের দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছিল।
 

Related Articles

Latest Posts