দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা, নির্মাতা, নাট্যনির্দেশক ও লেখক তৌকীর আহমেদকে নিয়ে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী এক বিশেষ অনুষ্ঠান।
বহুমাত্রিক সৃজনযাত্রার জন্য পরিচিত এই শিল্পীকে ঘিরে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ১২ ঘণ্টার আয়োজন।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। দিনের শুরুতেই থাকছে ‘আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্পীর দায়’ শিরোনামে একটি সেমিনার। এতে তৌকীর আহমেদের কাজ ও শিল্পভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন তার সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতা ও শিল্পীরা।
বিকেলে প্রদর্শিত হবে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। আর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে তার নির্দেশিত ও অভিনীত নাটক ‘তীর্থযাত্রী’—যার মাধ্যমে দর্শকরা মঞ্চে সরাসরি দেখতে পাবেন এই শিল্পীকে।
১৯৮০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তৌকীর আহমেদ রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দর্শকমহলে আলাদা জায়গা করে নেন। বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘নদীর নাম মধুমতী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
পরবর্তীতে নির্মাতা হিসেবে ২০০৪ সালে ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্মাণ করেছেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ও ‘স্ফুলিঙ্গ’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র।
তার দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক শিল্পযাত্রাকে স্মরণ ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ‘সুহৃদ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শিরোনামের এই আয়োজন সম্পর্কে আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক শিল্পীর জীবন, তার সৃষ্টিকর্ম ও সমাজ সচেতন দায়বোধকে নতুনভাবে অনুধাবনের একটি উপলক্ষ।

