২০ বছর পর হচ্ছে নতুন ভিসা নীতি, খসড়া পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভা কমিটি

বিদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে ‘ভিসা নীতি ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০০৬ সালে প্রণীত ভিসা নীতিকে হালনাগাদ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থান প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী করাই এই নীতির লক্ষ্য।

ভিসা নীতির খসড়াটি প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত নীতির মাধ্যমে দেশের অভিবাসন কাঠামো আধুনিক করা এবং ভিসা সেবা আরও দক্ষ ও কার্যকর করা হবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান আদান-প্রদান সহজ করা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ভিসা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাও এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘ভিসা নীতি মূলত বিদেশ থেকে যারা দেশে আসবেন তাদের জন্য। ২০০৬ সালের পর ২০ বছর পেরিয়ে আবার ভিসা নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নীতির মাধ্যমে বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি সহজ করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পর্যটন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও মতামত দেবে, এতে নীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।’

২০০৬ সালের নীতির অধীনে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হলেও ছাড়পত্র পেতে দেরি হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন নীতিতে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, যাতে বিদেশিরা সহজে আসতে পারেন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে।’

প্রস্তাবিত ভিসা নীতিতে মোট ৩৪টি ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

খসড়া পর্যালোচনা ও সংশোধন শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি উপস্থাপন করবে মন্ত্রিসভা কমিটি।

Related Articles

Latest Posts