হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধীদল: মির্জা ফখরুল

বর্তমান বিরোধীদল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধীদল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, তারাও সেই ভাষায় কথা বলছে—করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাব, দেশ চালাব। সেটিতে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তখন আপনারা বলবেন—দেশ চালাতে পারেন নাই। কিন্তু কাজ করার আগেই যদি আপনারা রাস্তায় নেমে পড়েন, তাহলে গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?’

‘দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন। এত বড় একটা ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই। দুয়েক দিনে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হয় না,’ বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল জানান, ওই সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা এবং ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। দেশে এখন সেই পরিস্থিতি নেই। ফ্যাসিবাদী শাসন শেষে এখন দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ এসেছে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশে নতুন করে কোনো গ্যাস ও তেলের খনি অনুসন্ধান করেনি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে তেল ও গ্যাসের কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছি। কূপ খননের জন্য টেন্ডার হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে।

‘দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। তবে মানুষ একদিনও তেল-গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়নি। সরবরাহ কিছুটা কমেছে। যে সংকট রয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে,’ বলেন মির্জা ফখরুল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির আয়োজনে অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারের মধ্যে চা-ঘর (চায়ের দোকান) হস্তান্তর করা হয়।

Related Articles

Latest Posts