দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ রোববার এক আদেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর আজ রাত থেকে কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর অধীনে গণশুনানি করেছে।
৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১ এর প্ল্যাটস দর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি আগস্ট মাসের জন্য দাম সমন্বয় করেছে।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়া উচিত।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২৩০ টাকা হয়েছে। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক।
মোফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে। কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে।
বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানি নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান
ডেইলি স্টারকে বলেন, বাড়তি ব্যয় টিকিটের দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর না চাপালে এয়ারলাইনসগুলো সেই ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারবে না। এতে লোকসানে পড়তে পারে।
ঢাকাভিত্তিক আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই সপ্তাহ পরও জ্বালানির দাম না কমলে আমরা এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করব।

