হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ফোনে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ রোববার ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্রের বরাতে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, ‘ফোনালাপে দুই নেতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।’
হরমুজ প্রণালিতে আবার জাহাজ চলাচল শুরু করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন তারা।
এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল চালু করতে নেওয়া উদ্যোগের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন স্টারমার।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় ফিরবে না।‘
তেহরান আবারও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, তারা এই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
সামুদ্রিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার দিনভর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কার ডিপব্লু। জাহাজটি ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ইরানের লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে পারস্য উপসাগরে পৌঁছায়। সিস্টার ভয়েজার নামেও একটি পণ্যবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়ে গেছে বলে জানা যায়।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে এ প্রণালি দিয়ে কার্যত সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান।
এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট ইতোমধ্যে প্রকট রুপ নিয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ছে দামও।
এ অবস্থায় হরমুজ সংকটসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত হয়নি।

