সাংবাদিক রূপা-বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটির তদন্ত প্রত্যাহারের আহ্বান ৫ আন্তর্জাতিক সংস্থার

গ্রেপ্তার সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

যৌথ বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের যেন ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করা না হয়, বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ মে এই মামলায় রূপা ও বাবুকে গ্রেপ্তার দেখায় আইসিটি।

প্রসিকিউশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান নিয়ে তাদের সম্প্রচারিত সংবাদ থেকে এসব অভিযোগের সূত্রপাত। তাদের বিরুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলেছে, বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে কীভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তসহ সাংবাদিকতার সব ধরনের কাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় সুরক্ষিত। এ ধরনের কাজকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বরং এতে সংবাদমাধ্যমের ওপর ভীতিকর প্রভাব পড়ে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রূপা ও বাবুসহ একাত্তর টিভির সাংবাদিক শাকিল আহমেদ এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে বিচার-পূর্ব আটক রয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা একাধিক হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভ্যুত্থানের মুখেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

২০২৬ সালের ১১ মে অধিকাংশ মামলায় রূপা ও শাকিলকে জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে পরে আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করে দেন।

সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, আইসিটির নতুন অভিযোগ রূপা ও বাবুকে আটক রাখার জন্য আলাদা একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। ফলে হত্যা মামলাগুলোতে জামিন পেলেও তাদের মুক্তি আটকে যেতে পারে।

চার সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো। একইসঙ্গে সাংবাদিকেরা সংশ্লিষ্ট আইসিটির এমন মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সাংবাদিক নিপীড়ন বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

Related Articles

Latest Posts