শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, তাকে দেশে এনে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ঢাবি টিএসসি অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজ ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী হাসিনা একটি দেশে আশ্রয়গ্রহণ করেছে। সেখান থেকে বড় বড় কথা বলছে। বলছে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। আমরা তো তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা তাগাদা পত্র দিয়েছি।’
‘তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। স্পষ্টভাবে বলেছি তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে, ফিরিয়ে নিয়ে এসে রায় কার্যকর করা হবে। যদি তার আপিল করার কোনো অধিকার থাকে, সেটা আইন-আদালত দেখবে,’ বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিভিন্ন দেশে আশ্রয়গ্রহণ করেছে, ফ্যাসিবাদী দোসর-মন্ত্রী-এমপিদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করিয়েছি। সেই প্রেক্ষিতেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগির তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব এবং বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।’
‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর হানাদার বাহিনীর মতো আক্রমণ করে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তাদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করব।’
আইসিটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দল হিসেবে বিচার করা যাবে। তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে ব্যক্তি ও সংগঠন উভয়ের বিচার করা যাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে। সুতরাং, বাংলাদেশে সব কিছুরই হিসাব নেওয়া হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
‘আমরা চাই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। আমরা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে সঠিক মনে করি না। এটা জুডিশিয়াল প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণহত্যা চালিয়েছে, সে দায়-দায়িত্ব সংগঠনকে নিতে হবে। বাংলাদেশে তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের নাম দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দিয়ে যারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তারা সবাই চিহ্নিত হয়েছে। তারা কখনো সেই দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারবে না। খুবই লজ্জিত হই যখন এই ফ্যাসিবাদী গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ তার প্রধান শেখ হাসিনা ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের এই গণহত্যার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই।’
অভ্যুত্থানের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন স্লোগান দিচ্ছিল, তখন আমি দেশে না থাকলেও আমার পুরো মনোযোগ ও সমর্থন আন্দোলনেই ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব। স্বাধীনতা অর্জন সহজ হলেও তা রক্ষা করা কঠিন। ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্যই সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রয়োজন।’
‘এই সংস্কারের লক্ষ্যেই আমরা ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছি, যা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে “জুলাই সনদ” সই করেছে এবং এই সনদ অনুযায়ীই সংবিধান ও আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জুলাই যুদ্ধে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন এবং যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা প্রদানসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া আমাদের অঙ্গীকার, যা জুলাই জাতীয় সনদেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। আমাদের মধ্যে বিভক্তি এলে তা কেবলই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করবে।’

