সংসার ও ক্যারিয়ারের সফলতার শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ডা. আঁচল

পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন ডা. আঁচল রায়। মাত্র ৩০ বছর বয়সে ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার আঁচল এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য) পরীক্ষার প্রথম পর্বও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।

মাত্র ১৭ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল এই চিকিৎসকের। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ থমকে গেল তার সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।

আজ রোববার সকালে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান আঁচল।

চার দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। পঞ্চম দিনে প্লাটিলেটের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে বলে জানান তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আঁচলকে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।’

চলতি বছর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি রোগী মারা যান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে ২২৫ জন মারা গেছেন, এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১২৮ জন।

আঁচলের পদায়ন ছিল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে। তবে সম্প্রতি তাকে একই হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয় বলে জানান স্বামী বিপ্লব।

চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

বিপ্লব বলেন, ‘আঁচল এফসিপিএস মিড-টার্ম ও এমআরসিপি পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমরা খুবই খুশি ছিলাম। আমার তাকে নিয়ে খুব গর্ব হতো।’

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত বিপ্লবের সঙ্গে আঁচলের পরিচয় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়।

বিপ্লব বলেন, ‘তিন বছর প্রেমের পর আমরা বিয়ে করি।’

আঁচলের বেড়ে ওঠা ঢাকায়, যদিও তার দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিপ্লবের বাড়ি বরিশালে। ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আঁচল সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।

Related Articles

Latest Posts