‘আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা বিশেষ কিছু,’ মোহামেডানের কোচ ভারেলা

বাংলাদেশে ফুটবল মানেই আলাদা এক আবেগ। সেই আবেগের বড় একটি অংশ জুড়ে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির নাম। দূর আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশে এসে সেই আবেগই এবার টেনে নিয়েছে ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলাকে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার কাছে তাই খুব কঠিন কিছু ছিল না। বরং বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসাই তাকে নতুন এই অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী করেছে।

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মোহামেডানের নতুন কোচ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টাইন-স্প্যানিশ এই কোচকে। বাংলাদেশে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারেলা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে ভারতে কোচিং করলেও মোহামেডানের প্রস্তাব পাওয়ার পর বাংলাদেশকে পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি তাকে।

‘আমি ২০১৮ সাল থেকে ভারতে কাজ করছি এবং সেখানে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছি। এ বছরও সেখানে ফিরে কাজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যখন আমাকে প্রস্তাব দিল, তখন এখানে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ, এখানকার সমর্থকদের ফুটবলের প্রতি যে আবেগ, বাংলাদেশে ফুটবলের যে ভালোবাসা, সেটা আমাকে টেনেছে,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেন ভারেলা।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী থাকায় এই দেশে নিজেকে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি হিসেবে দেখাটাও ভারেলার কাছে বিশেষ কিছু। ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ,’ বলেন ৫৩ বছর বয়সী এই কোচ। অথচ এর আগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের একটি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের কোচ হওয়ার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত আসা হয়নি তার।

ভারতের ফুটবলে অবশ্য ভারেলার অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোকুলাম কেরালা, চার্চিল ব্রাদার্স, শ্রীনিদি ডেকান, বেঙ্গালুরু ইউনাইটেড ও স্পোর্টিং ক্লাব দ্য গোয়ার মতো ক্লাবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চান তিনি। মোহামেডানের সমর্থকদের জন্য তার প্রতিশ্রুতি, শুধু ফল নয়, মাঠে দেখতে পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় ফুটবলও।

তবে মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে দায়িত্ব নিয়ে লক্ষ্যও ছোট রাখছেন না ভারেলা। বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপ, দুটি শিরোপাই জিততে চান তিনি। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে যে লিগ শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান, সেটি আবারও ঘরে তোলার লক্ষ্যেই শক্তিশালী দল গড়েছে সাদা-কালোরা।

সেই দলে জাতীয় দলের নয়জন খেলোয়াড় আছেন। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের আরও ছয়জন খেলোয়াড়ও রয়েছেন। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড় বলেই যে একাদশে জায়গা নিশ্চিত—ভারেলার কাছে বিষয়টি এমন নয়। তাঁর কাছে অনুশীলনের পারফরম্যান্সই হবে একাদশ নির্বাচনের মূল মানদণ্ড।

‘আমাদের সঙ্গে জাতীয় দলের খেলোয়াড় থাকলেও আমাকে দেখতে হবে কে ভালো, কে পরের ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। এটাই আমার পদ্ধতি। এভাবেই আমি তাদের নিজেদের জায়গার জন্য লড়াই করতে উৎসাহিত করব,’ বলেন ভারেলা।

অর্থাৎ দলে কারও জায়গাই নিশ্চিত নয়। প্রতিটি অনুশীলনেই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে খেলোয়াড়দের। ‘তারা প্রতিটি পজিশনের জন্য লড়াই করবে। প্রতিটি অনুশীলনে তারা আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করবে এবং পরের ম্যাচে খেলার জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে,’ যোগ করেন মোহামেডানের নতুন কোচ।

Related Articles

Latest Posts