শিক্ষক সংকট কমাতে খণ্ডকালীন ‘শিক্ষক পুল’ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

কলেজে শিক্ষক সংকট কমাতে খণ্ডকালীন ‘শিক্ষক পুল’ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ জন্য বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। এই পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।

আজ শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং—গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়।

সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে ৪ বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া সিজিপিএ ২ দশমিক ২৫ এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তাদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়েছে।

উপাচার্য ড. আমানুল্লাহর বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।’

স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।’

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত এবং নতুন কারিকুলাম অনুমোদন করা হয়। এছাড়া ১০২তম একাডেমিক কাউন্সিলের কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।

 

 

Related Articles

Latest Posts