রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল আরও ২ দিনের রিমান্ডে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে আরও দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ দোহা সুমন জানান, আজ সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রাকিবুলকে নতুন করে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম ইশরাত জাহান এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জানান, রাকিবুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।

একই দিন রাকিবুল এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথ।

পরে এ মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সম্পর্কে রাকিবুলের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই অডিও ক্লিপে ওসিকে পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাকিবুলের কণ্ঠ বলে দাবি করা ওই অডিওতে বলা হয়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসছেন। কিছুই হবে না। রাস্তায় পুলিশের অবস্থা কতটা দুর্বল, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। তার এ মাসেই আসা উচিত ছিল … তিনি এলে এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ বা বেপরোয়া ভঙ্গিতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম সম্পর্কে তার বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি ও সহিংস বিশৃঙ্খলার দিকে পরিস্থিতি নিয়ে যাওয়ার মতো উসকানি ও প্ররোচনার পর্যাপ্ত উপাদান ছিল।

ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী সময়োপযোগী ব্যবস্থার কারণে আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও যেকোনো সময় দাঙ্গা ও অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আসামি সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন।

Related Articles

Latest Posts