রান্নার কষ্ট লাঘবে মা-বোনদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

রান্নাবান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সারা দেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।

আজ সোমবার যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব গ্রামের নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে ওই পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেবে। এই টাকা দিয়ে নারীরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও ভালো খাবারের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি বা গরু-ছাগল পালনের মতো ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। বেকারত্ব দূর করতে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারীশিক্ষার প্রসারে সরকার স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবে।

ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ২৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা উলশী খালটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলে স্থানীয় প্রায় ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে এবং অন্তত ৭২ হাজার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। এ ছাড়া খাল খননের পর এর দুই পাড়ে তিন হাজার গাছ লাগানো হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, আমরা তার প্রতিটি লাইন ও শব্দ পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। কারা দেশে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে, জনগণ তা দেখছে। যারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চায়, তারা মূলত জনগণের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলোকে ভেস্তে দিতে চায়। অতীতেও আন্দোলনের নামে ১৭৩ দিন হরতাল করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনো সেই ভূত আরেকজনের ঘাড়ে আছর করেছে।

দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আমাদের জনসংখ্যা ২০ কোটি। এই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি দেশ গঠনের কাজে লাগে, তবে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন খুব সহজেই সম্ভব। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে, ৯০-এ স্বৈরাচার হটিয়ে এবং ২৪-এ ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে এ দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে তারা সব পারে। আমরাও সিঙ্গাপুরের মতো আমাদের দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’

Related Articles

Latest Posts