যে দিনটা আর অন্য দিনের মতো না

দিনটি ছিল আর দশটা দিনের মতোই।

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নিয়মমাফিক কাজ চলছিল। কর্মকর্তারা একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন, মন্ত্রীরা বৈঠক করছিলেন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। পরদিন সকালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। 

তখন কেউ জানত না, এই দিনটিই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার শেষ কর্মদিবস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দিনভর নানা কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও শেখ মুজিবের মনে পড়ে পরিচিত একজনের অসুস্থতার কথা। সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি তার সহকারী একান্ত সচিব শাহরিয়ার ইকবালকে বলেন, আতাউর রহমান খান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। তার মেয়েদের যেন আসতে বলা হয়।

শাহরিয়ার পরে তার স্মৃতিকথা ‘বঙ্গবন্ধু: শ্রদ্ধায় ভাবনায় স্মৃতিতে’ বইয়ে সেই দিনের কথা লিখেছেন।

খান আতাউরের মেয়েরা এলে শেখ মুজিব স্নেহের সঙ্গে তাদের অভ্যর্থনা জানান। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অন্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার মতো করে নয়, বরং অসুস্থ বাবার চিন্তায় উদ্বিগ্ন মানুষের মতো করেই মুজিব তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল জোরেশোরে। দুপুরে মুজিব তার প্রেস সচিব তোয়াব খান এবং সহকারী প্রেস সচিব ও বক্তৃতা লেখক মাহবুব তালুকদারকে ডাকেন। পরদিনের অনুষ্ঠানের জন্য ভাষণ তৈরি করতে বলেন।

মাহবুব তার ‘বঙ্গভবনে পাঁচ বছর’ বইয়ে লিখেছেন, ‘আমি একটু বিস্মিত হয়েছিলাম, তিনি কি তাহলে লিখিত ভাষণ দেবেন?’ 

তোয়াব খানও বিষয়টা জানতে চান। শেখ মুজিব পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘লেখা বক্তৃতা নয়, মুখেই বলব। তবে হাতের কাছে লিখিত সমস্ত ডাটা ও ইনফরমেশন থাকতে হইব।’ 

সেদিন শিক্ষা সচিব এম মোকাম্মেল হকেরও আসার কথা ছিল। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মাহবুবকে একটি খসড়া তৈরি করতে বলেন তোয়াব খান।

ব্যস্ত দিন শেষে সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় গণভবন থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনের দিকে রওনা হচ্ছিলেন। এ সময় মাহবুব তাকে মনে করিয়ে দেন, সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের বিদায়ী নৈশভোজের আয়োজন আছে।

মুজিব বলেন, ‘হ, জানি।’ এরপর যোগ করলেন, ‘তার মানে আমারে এখনই ছুটি দিলা তোমরা।’ 

এরপর মৃদু হেসে মুজিব আরও বলেন, ‘ফরাসের ডিনারে তো আমি থাকতে পারি না।’ 

মাহবুব লিখেছেন, এরপর আরও একটি খবর এল।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার রামগতিতে বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকজন ভারতীয় সেনা নিহত হন। দুর্ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কূটনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়।

মাহবুবের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের মতবিরোধ হয়। 

ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জে এন দীক্ষিত মনে করেছিলেন, খবরটা প্রকাশ করা ঠিক হবে না। কিন্তু তোয়াব খান জানান, আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রেস সচিব কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন। তার মনে হয়েছিল, এ বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতিকেই নিতে হবে।

তিনি রাষ্ট্রপতিকে ফোন করেন। মুজিব তাকে বলেন, ‘তুমি আমার অফিসে গিয়া রেড টেলিফোনে আমারে ফোন কর।’

তোয়াব খান তা-ই করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে আসেন।

এরপর ভারতীয় দূতাবাস থেকে আবার ফোন আসে। তোয়াব খান বলেন, দুর্ঘটনার খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। 

ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জানান, তিনি বিষয়টা দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। 

জবাবে তোয়াব খান বলেন, ‘আমরাও উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমতাবস্থায় আমাদের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’ 

শাহরিয়ারের বর্ণনা অনুযায়ী, সেদিন মুজিব দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি নৌবাহিনী প্রধান, তথ্য ও বেতারমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষামন্ত্রীসহ আরও অনেকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিকেল গড়িয়ে অফিসের ব্যস্ততা যখন কিছুটা কমতির দিকে, মুজিব গণভবনের লেকের পাশে গিয়ে বসেন। কেউ একজন মাছের জন্য খাবার ছিটিয়ে দেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুর আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

কাছেই বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেল সাঁতার শিখছিল। কিছুক্ষণ পর সাঁতারের প্রশিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভেজা শরীরেই বাবার সামনে এসে দাঁড়ায় সে। মুজিব ছেলেকে বলেন, ‘ইনি তোমাকে সাঁতার শেখাচ্ছেন, সে জন্য তাঁকে তোমার কিছু উপহার দেওয়া উচিত।’

শিক্ষামন্ত্রী ও আরেকজন কর্মকর্তা মুজিবকে সেই মানপত্র দেখান, যা পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠ করার কথা ছিল।

 

অফিস ছাড়ার আগে শাহরিয়ারকে ১৫ আগস্ট সকালে সরাসরি তার বাসভবনে যেতে বলেন মুজিব। ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল শাহরিয়ারের।

 

কিন্তু সেই যাত্রা আর কখনো হয়নি।

পরদিন ভোরেই বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পর সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছিল।

 

দিনটি ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় সবাইকে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য হত্যা করে। তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে থাকায় তারা বেঁচে যান।

পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর নেওয়া তৎকালীন মেজর এম সাখাওয়াত হোসেন সেদিন সকালে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে ৩২ নম্বরের ওই বাড়িতে যান।

সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তার ‘বাংলাদেশ: রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১’ বইয়ে লিখেছেন।

বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তার নাকে পোড়া বারুদের গন্ধ এসে লাগে। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন তিন রোল ফিল্ম সংগ্রহ করতে—একটি বিটিভির এবং দুটি স্টিল ইত্তেফাক ও দৈনিক বাংলার আলোকচিত্রীদের তোলা। মুজিব পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরপরই তাদেরকে এনে এসব ছবি তোলা হলেও নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।

সাখাওয়াত বঙ্গবন্ধুর সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদের মরদেহ দেখতে পান। পরে তাকে মরণোত্তর বীর উত্তম খেতাব দেওয়া হয়।

জামিলের শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।

‘নিজের অজান্তেই আমার চোখে পানি এল,’ বলেন পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা সাখাওয়াত।

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে সাখাওয়াতকে পুরো বাড়িটি ঘুরে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়।

 

বাড়ির ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তার বুক ধড়ফড় করতে থাকে।

তিনি লেখেন, ‘বারবার নাকে এসে লাগছিল লাশের গন্ধ। সেই সঙ্গে বারুদের গন্ধ আর মৃত্যুর নিস্তব্ধতা মিলে সৃষ্টি হয়েছে অদ্ভুত এক পরিবেশের। সব মিলিয়ে মনে হলো এক মৃত্যুপুরীর মধ্যে এসে পড়েছি আমি।’

 

ওই বাড়িতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শকের মরদেহ সিঁড়ির নিচে একটি টেবিলের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন সাখাওয়াত। টেবিলটি রক্তে ভেসে ছিল।

 

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি ওই জায়গা দিয়ে এগিয়ে যান। জায়গাটি তখন ভৌতিক মনে হচ্ছিল। দেয়ালজুড়ে যেন ঝুলছিল মৃত্যুর বিভীষিকা।

 

আরও কিছুটা এগিয়ে সিঁড়ির ডান পাশে আরেকটি ঘর দেখতে পান তিনি। তার মনে হয়, সেটি সম্ভবত অতিথিকক্ষ।

 

‘ভেতরে ঢুকে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের ও তার এক সহকারীর বুলেটবিদ্ধ মৃতদেহ। শেখ নাসেরের মৃতদেহ বাথরুমের দরজার সামনে পড়ে আছে।’ 

 

সাখাওয়াত দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে যান। এরপর এমন দৃশ্য তিনি দেখেন, যা সারা জীবন তার মনে গেঁথে ছিল।

‘সিঁড়ির মাঝামাঝি এসেই সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখলাম, যা আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। আর সেই দৃশ্যটি ছিল সিঁড়ির ওপরে পড়ে আছে বঙ্গবন্ধুর নিষ্প্রাণ দেহ।’

 

‘…সিঁড়ির মধ্যধাপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুলেটবিদ্ধ রক্তাক্ত নিষ্প্রাণ সুঠাম দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পেলাম।’ 

 

মুজিবের পরনে ছিল সাদা কুর্তা ও চেক লুঙ্গি। ডান হাত ছিল বুকের ওপর, বাঁ হাত সামান্য প্রসারিত। একটু দূরে ছিটকে পড়ে ছিল তার চশমাটা।

সাখাওয়াত লিখেছেন, ‘বুক ঝাঁঝরা হয়ে গেছে গুলির আঘাতে। সিঁড়ির ওপরে জমাটবাঁধা চাক চাক রক্ত। মুখমণ্ডল তেমনি শান্ত, কোথাও কোনো ভয়ের চিহ্ন নেই। দেখে মনে হলো মৃত্যুর সামান্য ছায়াও তাঁর মুখে পড়েনি।’

 

সাখাওয়াত আরও লেখেন, মুজিবের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের হাতে। কিন্তু তাকে হত্যা করার সাহস তাদের ছিল না। শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে নিজের বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।

 

সাখাওয়াত জানান, বঙ্গবন্ধুর মরদেহের সামনে তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। তিনি লেখেন, ‘বুকের ভেতর কেমন একটু অস্থির অস্থির লাগছিল।’

 

‘ওপরে উঠতে হলে বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ ডিঙিয়ে যেতে হবে, যা খুবই অমর্যাদাকর ব্যাপার হবে মনে করে কোনোরকমে দেয়াল ঘেঁষে ওপরে শেখ সাহেবের শয়নকক্ষের দিকে চলে গেলাম।’

 

ওপরের তলাতেও ভয়াবহ দৃশ্য অপেক্ষা করছিল।

সাখাওয়াত একটি শোবার ঘরে পৌঁছান। অতিসাধারণ মধ্যবিত্ত যেকোনো পরিবারের শোবার ঘরের মতোই সেখানে ছিল একটি ডাবল বেড ও পাশে রাখা একটি আলমারি। কোণের একটি টেবিলে রাখা ছিল তিনটি ফোন। যার মধ্যে রেড ফোনটাও ছিল। সাইড টেবিলে আরও কয়েকটি পাইপ।

 

‘সিঁড়ি থেকে এ ঘরটি পর্যন্ত রক্তে রক্তে একাকার। প্রায় শুকিয়ে যাওয়া রক্তের গন্ধ নাকে যেতেই কেমন অসহ্য লাগলো। চোখে পড়ল বুটেরও অনেক দাগ। ঘরজুড়ে সৈনিকদের চলাচলের চিহ্ন এগুলো।’

 

নিহত পরিবারের সবার মরদেহ ছিল মূল শোবার ঘরে।

 

সাখাওয়াত বলেন, ‘বেডরুমে ঢোকার মুখেই বেগম মুজিবের মৃতদেহটা দেখলাম। তাঁর পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কামাল, জামাল আর তাদের সদ্য বিবাহিত দুই বধূ এবং সবার শেষে কোনার দিকে শিশু রাসেলের মৃতদেহ।’

 

সাখাওয়াত লিখেছেন, ‘হয়তো একই রুমে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে অথবা একত্র করার জন্য দু-একজনের মৃতদেহ এক রুমে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে।’

 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ হামিদও ১৫ আগস্ট ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও না বলা কিছু কথা’ বইয়ে তিনি সেই হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন।

 

ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর শেখ মুজিবের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পুরো সিঁড়িজুড়ে ছিল রক্তের ধারা।

 

এরপর তিনি দেখেন, দেয়ালের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে আছে বেগম মুজিবের মরদেহ।

 

হামিদ তার পাশ দিয়ে এগিয়ে ঘরে ঢোকেন।

 

‘কামরার মেঝেতে এক সাগর রক্ত থপথপ করছিল। আমার বুটের সোল প্রায় অর্ধেক ডুবে যাচ্ছিল। বিধ্বস্ত পরিবেশ। রক্তাক্ত কামরার মধ্যে পড়ে আছে কয়েকটি লাশ।’

 

হামিদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাঁ পাশে পড়ে ছিলেন শেখ জামাল। তার মরদেহের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ঘরের ভেতরে গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল। কাছেই ছিলেন সদ্যবিবাহিত রোজী জামাল; তার হাতে তখনও মেহেদির রং। বিস্ফোরণ বা গ্রেনেডের আঘাত সরাসরি তার মুখে লেগেছিল।

 

তার পাশেই ছিলেন সুলতানা কামাল। মাত্র কয়েক দিন আগেই হামিদ ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয় মুখ এই ‘সোনার মেয়েকে’ স্টেডিয়ামে দৌড়াতে দেখেছিলেন।

 

হামিদ লিখেছেন, ‘তার কোল ঘেঁষে ছোট রাসেলের মৃতদেহ। বড়ই করুণ দেখাচ্ছিলো তার মুখখানি। তার মাথার খুলির পিছন দিক একেবারে থেঁতলে যায়। জানি না কি অপরাধ করেছিল এই ছোট্ট শিশুটি।’ 

 

এভাবেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায়ের।

 

দিনটি আর দশটা দিনের মতো ছিল না। 

 

 

Related Articles

Latest Posts