যুক্তরাষ্ট্রকে মাত্রাতিরিক্ত দাবি-দাওয়া থেকে সরতে হবে: ইরান

বেশ কিছুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির পরিস্থিতি চলছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা আপাতত বন্ধ হলেও এখনো ‘শান্তির হরিণ’ ধরায় দেয়নি। 

অপর দিকে ওয়াশিংটন-তেহরানের দরকষাকষিতে একের পর এক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি দাবি করেন, তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের দাবিদাওয়া ‘অত্যধিক’। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোই আমাদের প্রাধান্যের জায়গায়। অপর পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র) একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে হবে। ইরান প্রসঙ্গে তাদের মাত্রাতিরিক্ত দাবিগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চালু হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনা হয়েছে। 

এসব দাবিদাওয়ার কেন্দ্রেই আছে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার জানান, মার্কিন সেনার প্রহরায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে ওয়াশিংটন। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে তেহরান। 

জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের উদ্যোগ নিলে গুলি চালিয়ে তাদেরকে বাধা দেওয়া হবে। 

মূলত, ইরান চায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকুক। ট্রাম্পের আপত্তি এখানেই। 

বাকি বলেন, ‘এতদিনে মার্কিনিদের জানা উচিৎ যে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির ভাষা বা বল প্রয়োগ কোনো কাজে আসবে না।’ 

‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেরাই হরমুজ প্রণালি ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের রক্ষাকর্তা’, যোগ করেন তিনি। 

তিনি জানান, যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পথ ছিল এই প্রণালিটি। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি মত দেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদি (ইসরায়েল) শাসকদের জবাবদিহির আওতায় আনা।’

‘তারাই এই নৌপথে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে, যা গোটা বিশ্বজুড়ে নানা সমস্যা তৈরি করছে’, যোগ করেন তিনি। 

এর আগে বাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশে তেহরান, ওয়াশিংটনের কাছে একটি ১৪ দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। 

তবে ট্রাম্পের রোববারের ঘোষণার আগেই সে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।  

Related Articles

Latest Posts