মেসেঞ্জারে খবর এলো ছেলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় মারা গেছে

দীর্ঘ ৭ বছর সিঙ্গাপুরে প্রবাস জীবন কাটান ময়মনসিংহের আব্দুর রহিম (৩০)। পরে দেশে ফেরেন। সংসারে সচ্ছলতা আনতে আবারও পাড়ি জমান রাশিয়ায়। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এরপর যোগ দেন দেশটির সেনাবাহিনীতে।

গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন বলে জানা গেছে।

তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।

গত ১০ মে রাতে ফেসবুক মেসেঞ্জারে রহিমের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান তার বন্ধু লিমন দত্ত।

নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন রহিমের সঙ্গে একই ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ড্রোন হামলায় তিনি একটি পা হারান। বর্তমানে লিমন রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রহিমের চাচা সিরাজুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ৩ ভাইয়ের মধ্যে রহিম ছিল সবার বড়। ১৮ মাস আগে একটি কোম্পানিতে কাজ করার জন্য রাশিয়ায় যায়। রহিম বলেছিল, দেশে ফিরে পাকাবাড়ি নির্মাণ করে বিয়ে করবে। কিন্তু আর ফেরা হলো না।

বাবা আজিজুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ছোট ২ ভাইয়ের পড়াশোনাসহ সংসারের সব খরচ রহিম দিতো। ঋণ ও জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়েছিল রহিম। এখন আমার পরিবারের কী হবে?

রহিমের ছোট ভাই আব্দুর রহমান বলেন, আমার বাবা দু’বার স্ট্রোক করেছেন। আমাদের ঘর ভাঙা। ভাইয়া বিদেশ যাওয়ার সময় ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। সেই ঋণ এখন আমাদের কাঁধে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, ভাইয়ের মরদেহ যেন দেশে আনা হয়। শেষবারের মতো তার মুখটা একবার দেখতে চাই।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে জানান, ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর শ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যান রহিম। তার পরিবার জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য লিখিত তথ্য কিংবা তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে রহিমের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

আজ রহিমের বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

ইউএনও শহিদুল ইসলাম বলেন, রহিমের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

 

Related Articles

Latest Posts