মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে ইরান: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি’ থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

লাভরভ বলেন, ‘আমরা ইরানের অবস্থান বুঝতে পারছি। তারা যথার্থভাবেই বলছে, তারা আগেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে।’ তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কথা, যা বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ে সম্পাদিত হয়েছিল।

এই চুক্তি, যা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে গেলে তা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।

লাভরভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ধরনের ইঙ্গিত থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আমরা দেখছি, কিন্তু বাস্তবতা দেখছি না।’

একইসঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে রাশিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এই প্রক্রিয়াকে তিনি অত্যন্ত অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করেন। 

লাভরভের ভাষায়, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি ১০ বার বদলে যেতে পারে।’

রাশিয়া এই আলোচনাকে সমর্থন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি বর্তমান আলোচনার মাধ্যমে ২০১৫ সালের মতো একটি সমঝোতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটি একটি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, লাভরভের এই বক্তব্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কোনো চুক্তি অর্জন করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং রাশিয়া-চীনসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো চুক্তি অর্জিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

 

Related Articles

Latest Posts