নারায়ণগঞ্জে দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির হাতাহাতি

নারায়ণগঞ্জ সদরের একটি খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য আজ দিন নির্ধারিত ছিল। দুপুরে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদ ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের উপজেলা পরিষদে ঢুকতে দিচ্ছিল না। প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে। এতে আমি ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর আহত হই। খবর পেয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও সংঘর্ষে জড়ান।’

জামায়াত নেতা আবু বকর ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোট ভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিল। বিএনপির বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের ওপর হামলা করে।’

জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি, যেন কোনো ঝামেলা না হয়। গতকাল রাতে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মারামারি বা সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।’

ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ‘ঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।’

 

Related Articles

Latest Posts