‘মারেস্কাই পারফেক্ট,’ গার্দিওলার উত্তরসূরিকে সমর্থন ভার্দিওলের

দশ বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের পর ম্যানচেস্টার সিটিতে শুরু হয়েছে নতুন যুগ। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেস্কা। কিংবদন্তি এক কোচের জায়গা পূরণ করা যে কতটা কঠিন, সেটি ভালোভাবেই জানে পুরো দল। তবে সেই কঠিন পথচলায় নতুন কোচের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন সিটির ডিফেন্ডার ইয়োশকো ভার্দিওল। তার চোখে, গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে মারেস্কাই ‘পারফেক্ট’ ব্যক্তি।

গত মৌসুমের শেষেই ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘ ১০ বছরের দায়িত্ব শেষ করেন গার্দিওলা। তার অধীনে অসংখ্য শিরোপা জেতা সিটির সামনে এখন নতুন করে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ। সেই দায়িত্বই পেয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী মারেস্কা।

লেস্টার সিটিকে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি চেলসির হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পর তিন বছরের চুক্তিতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ। শনিবার হংকংয়ে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ দিয়ে সিটির ডাগআউটে তার অভিষেকও হয়েছে। তবে সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে হেরে যায় সিটি।

গার্দিওলার মতো একজন কোচের জায়গা নেওয়ার চাপ থাকলেও মারেস্কার সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই ভার্দিওলের। বরং নতুন কোচকে দলের জন্য আদর্শ বলেই মনে করছেন ক্রোয়েশিয়ার এই ডিফেন্ডার, ‘মানটা এতটাই উঁচু যে তাকে নিশ্চয়ই কোনো কারণেই কোচ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয় তার সামর্থ্য আছে, নতুন কিছু ধারণা আছে। এখন আমাদের দেখতে হবে আমরা কীভাবে খেলব, আমাদের খেলার ধরন কী হবে এবং কৌশল কী হবে।’

এরপরই নতুন কোচের প্রতি নিজের আস্থার কথা স্পষ্ট করে ভার্দিওল বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে একদম পারফেক্ট। তবে অবশ্যই সময় লাগবে। এটি সম্পূর্ণ নতুন কিছু। কোচ পরিবর্তন করা সহজ নয়। আমাদের সময় দিতে হবে।’

মারেস্কাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সহায়তা করাকেই এখন নিজেদের দায়িত্ব মনে করছেন ভার্দিওলরা। তিনি বলেন, ‘তাকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা এবং তার কথা শোনা আমাদের দায়িত্ব। যত দ্রুত সম্ভব তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

নতুন কোচের সঙ্গে ইতোমধ্যে ব্যক্তিগতভাবে কথাও হয়েছে ভার্দিওলের। নিজের চোট এবং গার্দিওলার অধীনে তার আগের খেলার ধরন নিয়েও মারেস্কার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গার্দিওলার বিদায় নিয়েও কথা বলেছেন ভার্দিওল। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমের মাঝপথে পায়ে চোট পেয়ে প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। জানুয়ারিতে ডান পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর মে মাসে ফিরে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন। সেই সময়ের মধ্যেই গার্দিওলার বিদায়ের ঘোষণা আসে।

ভার্দিওলের মতে, মৌসুমের একেবারে শেষ সপ্তাহে কোচের বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানানোর সময়টিই ছিল সঠিক। কারণ অনেক আগে জানালে সেটি দলের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারত।

তিনি বলেন, ‘কেউ হয়তো বলবে, তিনি আমাদের আরও আগে জানাতে পারতেন। আবার কেউ বলবে, না, এটাই ঠিক ছিল। আমার মনে হয় সময়টা একদম ঠিক ছিল। তিনি যদি আরও আগে বলতেন, তাহলে সেটি মানসিকভাবে আমাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারত।’

১০ বছর ধরে সিটির দায়িত্ব পালন করা গার্দিওলার বিদায় যে একসময় আসবেই, সেটি অবশ্য দলের খেলোয়াড়রা বুঝতে পারছিলেন। ভার্দিওলের ভাষায়, ‘আমরা জানতাম, কোনো একসময় তাকে আমাদের জানাতেই হবে। তিনি এখানে ১০ বছর ছিলেন। এখন তার কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া এবং হয়তো অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। আমরা সেটা অনুভব করতে পারছিলাম।’

গার্দিওলার শেষ সময়টাও ছিল ওঠানামায় ভরা। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি একসময় বিদায়ের পথে ছিলেন, পরে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার আগের মৌসুমে সিটির কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেছেন ভার্দিওল। টানা ১৩ ম্যাচ জয়হীন থাকার মতো কঠিন পরিস্থিতিও পার করতে হয়েছিল দলটিকে।

তবে গার্দিওলার বিদায়ে কষ্ট থাকলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন ভার্দিওল। বরং ম্যানসিটি তারকার বিশ্বাস, ফুটবলে গার্দিওলা আবারও ফিরতে পারেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত তার চলে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। তবে তাকে নিয়ে কে জানে! হয়তো ছয় মাস পর আবার শক্তি ফিরে পেলে তিনি ফিরে আসতে পারেন।’

Related Articles

Latest Posts