বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা সভাপতির পদ। ইউরোপের পেশাদার ফুটবল লিগগুলোর সংগঠনের প্রধান ক্লদিয়াস শেফার দাবি করেছেন, এমন বিতর্কিত উদ্যোগের পর ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর অবস্থান আর টেকসই নয়। তার মতে, পুরো বিষয়টি যেভাবে ফিফার গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাতে এর একমাত্র পরিণতি হওয়া উচিত ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানো।
ইউরোপের পেশাদার ফুটবল লিগগুলোর সংগঠনটি ইউরোপের ৫৩টি পুরুষ ও নারী পেশাদার ফুটবল লিগের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটির প্রধান শেফার একই সঙ্গে সুইস ফুটবল লিগের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘সনটাগসজাইটুং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেফার বলেন, ‘পুরো বিষয়টি যেভাবে এগিয়েছে এবং ফিফার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো এতে সম্পৃক্তই ছিল না, এটা দেখার পর যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনে মূলত একটিই পরিণতি হওয়া উচিত।’
ইনফান্তিনোকে এখন ফিফা সভাপতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেফার আরও স্পষ্টভাবে বলেন, ‘সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি অন্য কাউকে না জানিয়ে এমন একটি বড় ব্যবসায়িক চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে এটাই পরিণতি হয়।’
অর্থাৎ, তার বক্তব্যের সারমর্ম স্পষ্ট, ফিফার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাটি নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল। ফিফা চেয়েছিল নিজেদের বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে এবং সেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে। কিন্তু উয়েফা, কনকাকাফসহ একাধিক আঞ্চলিক সংস্থা এর বিরোধিতা করে।
অবশেষে শুক্রবার ইনফান্তিনো ঘোষণা দেন, ব্যাপক সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে ফিফা সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে। কিন্তু পরিকল্পনা বাতিল করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি তিনি। বরং শনিবার উয়েফা ও কনকাকাফ জানিয়ে দেয়, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর আস্থা নেই।
শেফারের মতে, পুরো পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ফিফার ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের একটি উদ্বেগজনক দিকও সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রস্তাবটি দেখে মনে হয়েছে ফিফার মূল লক্ষ্য ছিল তৃতীয় পক্ষের আর্থিক লাভ সর্বোচ্চ করা। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ভবিষ্যতে আরও বেশি এবং আরও বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথ তৈরি করা হতে পারে।
‘এখানে শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। অন্য সবকিছু যেন পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে,’ বলেন শেফার।
ইউরোপের পেশাদার লিগগুলোর আপত্তির জায়গাটিও পরিষ্কার করেছেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচি এমনিতেই ম্যাচের চাপে ঠাসা। এর মধ্যে আরও বেশি প্রতিযোগিতা এবং ম্যাচ যোগ হলে জাতীয় লিগগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হিসেবে ফিফা কাউন্সিলকেও এই পরিকল্পনার বাইরে রাখার কথা উল্লেখ করেছেন শেফার, ‘এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউই জানত না। এমনকি ফিফার পরিচালনাকারী সংস্থা ফিফা কাউন্সিলও জানত না। সভাপতি পুরো বিষয়টিতে একেবারেই একা সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, এটা দেখে আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছি।’

