ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম অ্যান্ডি বার্নাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই মেয়রকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনাকল্পনা।
ব্রিটেনের রাজনীতি নিয়ে বার্নামের ‘মোহভঙ্গ’ ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের কথা উঠে এসেছে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নাম তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখেন ২০০৯ সালকে। ওই বছর লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে এক স্মরণসভায় গিয়ে তিনি দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন। ১৯৮৯ সালের ‘হিলসবোরো ট্র্যাজেডিতে’ মারা যাওয়া ৯৭ জন মানুষের বিচার না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে সমবেত হয়েছিলেন।
তৎকালীন লেবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন বার্নাম। মানুষের এই ক্ষোভ তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরে তিনি বলেন, ‘ওই দিনই পার্লামেন্টের রাজনীতির প্রতি আমার মোহভঙ্গ হয়।’
সেই বার্নাম আবার ফিরে এসেছেন। গত ৯ বছর ধরে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। এত দিনে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। তার দাবি, তিনি হবেন আগের নেতাদের চেয়ে আলাদা, যিনি লন্ডনের বাইরের সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেবেন।
করোনা মহামারির সময় বরিস জনসনের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পান। ম্যানচেস্টারের গণপরিবহনব্যবস্থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনি দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন। স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করায় অনেকেই তাকে ‘উত্তরের রাজা’ উপাধি দিয়েছেন।
১৪ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেওয়া বার্নামের উঠে আসার গল্প বেশ সাধারণ। তার বাবা ছিলেন একজন ফোন ইঞ্জিনিয়ার ও মা কাজ করতেন রিসেপশনিস্ট হিসেবে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান।
টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্ব পাওয়ার দৌড়ে নামলেও দুবারই হেরে যান। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম মেয়র হিসেবে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে তিনি আরও বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।
লেবার পার্টির অনেকেই বিশ্বাস করেন, ডানপন্থী ‘রিফর্ম ইউকে’ বা বামপন্থী ‘গ্রিন পার্টি’র কাছে হারানো ভোট ফিরিয়ে আনতে বার্নামই এখন দলের সেরা বিকল্প। দেশের জন্য তিনি নতুন এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ আনতে পারবেন বলে আশা করছেন তার সমর্থকেরা।

