একসময় বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের জীবন আর কাঁচাবাজার ছিল অবিচ্ছেদ্য। সকাল সকাল থলে হাতে বাজারে যাওয়া, কলার মোচা নিয়ে দরদাম কিংবা ইলিশের ফুলকা দেখে টাটকা কি না যাচাই করা ছিল আমাদের সংস্কৃতির অংশ।
কিন্তু সময়ের চাকায় দ্রুত নগরায়ন আর যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় সেই চিরচেনা অভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এখন আর সবার হাতে সকালে বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় নেই, নেই আগের মতো জহুরি চোখ দিয়ে পণ্য চেনার আত্মবিশ্বাসও।
ক্রেতাদের এই সময়ের অভাব আর স্বাচ্ছন্দ্যের চাহিদাকে পুঁজি করে প্রায় ২৫ বছর আগে দেশে যাত্রা শুরু করেছিল সুপারশপ। শুরুতে কেবল শহুরে আভিজাত্যের প্রতীক মনে হলেও বর্তমানে এটি মধ্যবিত্তের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পর সুপারশপ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এসেছে জোয়ার। বর্তমানে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপারশপ চেইনগুলো প্রায় একই ধরনের ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করেছে। মানসম্মত পণ্য, টাটকা বাজার এবং এক জায়গায় সবকিছু পাওয়ার সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই মডেলের মাধ্যমে গত আড়াই দশক ধরে দেশের মোট খুচরা বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার দখলে রেখেছে এ খাত।
আগের সুপারশপগুলোর মতো শুধু আবাসিক এলাকায় দোকান না খুলে নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। যেমন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন ব্র্যান্ড ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ ঢাকার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে শাখা চালু করছে।
‘ফ্রেশ মার্ট’ বলছে, টোকিও ও লন্ডনের মতো আধুনিক শহরের ধাঁচে তারা মানুষের চলাচল বেশি হয় এমন জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে আউটলেট খুলছে, শুধু আবাসিক এলাকা নয়।
বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩০টি বড় সুপারশপ ব্র্যান্ড রয়েছে।
শুরুতে এই খাত বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এসিআইয়ের ‘স্বপ্ন’ এবং প্রাণ গ্রুপের ‘ডেইলি শপিং’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে এখন কিছু উপজেলা শহরেও সুপারশপ পৌঁছে গেছে।
এখন শহরের অনেক মানুষ চাল, সবজি, মাছ, মাংস ও গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য মাসিক ভিত্তিতে সুপারশপ থেকে কিনছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ এখনও সুপারশপের পাশাপাশি কাঁচাবাজার থেকেও কেনাকাটা করেন, বিশেষ করে টাটকা সবজি ও অন্যান্য তাজা পণ্যের জন্য।
ঢাকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আফরোজ বলেন, তিনি মূলত এমন পণ্য সুপারশপ থেকে কেনেন, যেগুলো স্থানীয় দোকানে সহজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ‘মুদি দোকানে সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্যের বৈচিত্র্য কম থাকে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডই পাওয়া যায়। কিন্তু সুপারশপে অনেক ধরনের পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হয় না বলে একই দামে পণ্য কিনতে পারি, আবার কখনো ছাড়ও পাওয়া যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজারের চেয়ে সবজির দামও কম থাকে, আর দরদামের ঝামেলাও নেই।’
আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে সুপারশপে বেশি ভরসা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমদানিকারকের সিল থাকায় পণ্যের বিষয়ে আস্থা তৈরি হয় এবং নিরাপদে কেনাকাটা করা যায়।’
ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সুপারশপ ও কাঁচাবাজার—দুই জায়গা থেকেই কেনাকাটা করেন। তার মতে, সুপারশপে দামের স্থিতিশীলতা বেশি থাকে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি খোলা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ করে লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু সুপারশপগুলো আগের দামেই তেল বিক্রি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এক ছাদের নিচে প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় বলে সুপারশপে সময়ও বাঁচে। তবে সবজি ও শাকপাতার জন্য তিনি এখনও কাঁচাবাজারকেই বেশি পছন্দ করেন।
সুবিধা ও মানসম্মত পণ্যের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সুপারশপের বিস্তার
দেশের প্রথম সুপারশপ চেইন ‘আগোরা’ ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে রহিমআফরোজ সুপারস্টোরস লিমিটেডের মাধ্যমে। তারা মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার স্লোগানে যাত্রা করেছিল।
এর এক বছর পর জেমকন গ্রুপ চালু করে ‘মীনা বাজার’। তাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে টাটকা পণ্য পৌঁছে দেওয়া।
বর্তমানে দেশের আধুনিক খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন’। ২০০৮ সালে এসিআই এটি চালু করে। এখন তাদের ৯০২টি আউটলেট রয়েছে এবং আধুনিক খুচরা বাজারের ৫৩ শতাংশ তাদের দখলে।
২০১৪ সালে প্রাণ গ্রুপ চালু করে ‘ডেইলি শপিং’। তারা মূলত সহজ ও ঝামেলামুক্ত কেনাকাটার সুবিধাকে গুরুত্ব দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত নতুন নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে এ খাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইন ডেলিভারি সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ায় সুপারশপগুলোর বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বাসার কাছাকাছি কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের খুচরা বিক্রি মডেলের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, ২০১২ সালে স্বপ্নের আউটলেট ছিল মাত্র ৩৭টি। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০২টিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে।
প্রাণের ‘ডেইলি শপিং’ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় মাত্র সাতটি আউটলেট ও ৩০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ আলম জানান, তখন প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।
বর্তমানে তাদের আউটলেট সংখ্যা বেড়ে ১১২টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আরও প্রায় ৩৫টি নতুন আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফিরোজ আলম বলেন, এই প্রবৃদ্ধি মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস বদলেরই প্রমাণ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ করছেন এবং মোট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তার মতে, আগে দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ সুপারশপ ব্যবহার করতেন। এখন তা প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। আয় বাড়া ও অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি ৬ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।
ফিরোজ আলম বলেন, দামের স্বচ্ছতা সুপারশপ জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
তিনি বলেন, ‘আরেকটি বড় সুবিধা হলো এখানে ক্রেতারা স্বাধীনভাবে পণ্য বেছে নিতে পারেন। কাঁচাবাজারে সাধারণত বিক্রেতারাই পণ্য তুলে দেন। কিন্তু সুপারশপে ক্রেতারা নিজেরাই পণ্য দেখে ও যাচাই করে কিনতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, সুপারশপে কেনাকাটার ওপর থাকা ৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে দেওয়ায় সংগঠিত খুচরা বাজার এখন আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে।
মীনা বাজারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জায়গীরদার বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ছোট কৃষকদের সঙ্গে ভোক্তাদের সরাসরি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই, একই সঙ্গে ক্রেতাদের আরও টাটকা ও নিরাপদ পণ্য দিতে চাই। আমাদের ‘ব্যাক টু রুট’ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিকে শক্তিশালী করা এবং আরও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারেরই অংশ।’
বাজার সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়ছে
দেশে আধুনিক খুচরা বাজার বা সুপারশপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও বাড়ছে। কেউ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আসছে, আবার কেউ সরাসরি নিজেদের আউটলেট চালু করছে।
চলতি বছর ‘স্বপ্ন’ জাপানের প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে। এই অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ব্যয় কমানো এবং সেবার মান আরও উন্নত করা।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আলফামার্ট ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। কাজী ফার্মস গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা শহর ও শহরতলির ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ছোট আকারের সুপারশপ চেইন চালু করেছে।
জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বর্তমানে আলফামার্টের অন্যতম শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পটির প্রথম ধাপে ৫ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা গুলশানে একটি এবং উত্তরায় আরেকটি স্টোর চালু করেছি।’
ডেইলি শপিংয়ের ফিরোজ আলম বলেন, দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাড়তি প্রতিযোগিতাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তার ভাষায়, ‘আমরা এই প্রতিযোগিতাকে ভালোভাবে দেখি। কারণ এতে একচেটিয়া ব্যবসা কমে, সেবার মান উন্নত হয় এবং ক্রেতারা মান ও দামের দিক থেকে আরও ভালো বিকল্প পান।’
সুপারশপ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসার ধরন ও অবস্থান নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে। শুধু ক্রেতার অপেক্ষায় না থেকে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের চলাচল বেশি, এমন ব্যস্ত শহুরে জায়গার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেঘনা গ্রুপ ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’-এর নয়টি আউটলেট চালু করবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য এসব আউটলেট পরিচালনা করা হবে।
স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা নর্থ।
মেঘনা গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব আউটলেটে আধুনিক খুচরা বিক্রয় সুবিধা থাকবে। এখানে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, হিমায়িত খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যপণ্য, ক্যাফে আইটেম, প্রস্তুত খাবার এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ওষুধ পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, যাত্রী চলাচল বেশি হওয়ায় মেট্রোরেল স্টেশনগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
‘প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এসব স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন এবং তাদের অনেকেরই দ্রুত কিছু কেনাকাটার প্রয়োজন হয়,’ বলেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমরা বড় সুপারশপ তৈরি করছি না। আমরা এমন ছোট আকারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি, যা আজকের শহুরে জীবনের গতির সঙ্গে মানানসই। অফিসে যাওয়ার পথে দ্রুত নাস্তা ও কফি, বাসায় ফেরার পথে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা, আর কাউন্টারে পরিচিত মুখ এই অভিজ্ঞতাই আমরা দিতে চাই।’
বর্তমানে মেঘনা গ্রুপের তেজগাঁও, মেঘনাঘাট ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে চারটি আউটলেট রয়েছে। এছাড়া গুলশানে তাদের অফিসেও আরেকটি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মেঘনা গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিরপুর-১০ স্টেশনের আউটলেটগুলোতে বিক্রির ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন আউটলেটের ইনচার্জ মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, আউটলেটি প্রায় ৩০ ধরনের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ছিল এবং চালুর পর থেকে ভালো বিক্রি হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন দুই সময়ে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। প্রথম ধাপ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, যখন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা কেনাকাটা করেন। দ্বিতীয় ধাপ বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, যখন মানুষ বাসায় ফেরেন।
দ্বীন ইসলাম আরও বলেন, বিশেষ করে স্ন্যাকস, ডেজার্ট ও প্রস্তুত খাবারের জন্য অনেক নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের মোট ক্রেতার প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এতে বোঝা যায়, এই আউটলেটটির সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

