বিশ্বকাপের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, আর ঠিক সেই সময়টাতেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বুধবার মেজর লিগ সকারে তার জোড়া গোল আর দুটি আক্রমণে সরাসরি অবদানেই এফসি সিনসিনাটিকে ৫-৩ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি।
রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচটিতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মায়ামি। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি।
চলতি মৌসুমে ১২টি এমএলএস ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১১।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সিনসিনাটির ডিফেন্ডার ম্যাট মিয়াজগার ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে পাওয়া বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান কেভিন ডেঙ্কি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাছ থেকে গোল করে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন পাভেল বুচা।
এরপরই আবার মেসির জাদু। ৫৫ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।
তবে নাটক তখনও বাকি। ৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে আবারও সিনসিনাটিকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান প্লেমেকার এভান্দার। টানা ছয় ম্যাচে এটি ছিল তার সপ্তম গোল।
কিন্তু শেষ দিকে পুরো ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দেয় মায়ামি। ৭৯ মিনিটে তরুণ আর্জেন্টাইন মাতেও সিলভেত্তির গোলের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। এরপর মেক্সিকান ফরোয়ার্ড জার্মান বের্তেরামে গোল করে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
শেষ আঘাতটিও আসে মেসির দিক থেকেই। ৮৯ মিনিটে সিলভেত্তির ক্রসে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডান পায়ে শট নেন তিনি। বল পোস্টে লেগে গোলরক্ষক রোমান সেলেন্তানোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে পড়ে। আত্মঘাতী গোল হিসেবে সেটিই নিশ্চিত করে মায়ামির ৫-৩ ব্যবধানের জয়।
ম্যাচ শেষে নিজের দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মায়ামি কোচ গিয়ের্মো হোইয়োস। তিনি বলেন, ‘আজ তারা অসাধারণ খেলেছে। কঠিন প্রতিপক্ষ আর কঠিন মাঠেও যেভাবে খেলেছে, সেটা সত্যিই দারুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে খেলা খুব কঠিন। তবে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, তারা এমএলএসে শুধু সময় কাটাতে আসেনি। তারা খেলতে এসেছে, নিজেদের সবকিছু দিতে এসেছে এবং বিশ্বকে দেখাতে এসেছে যে এখানেও উচ্চমানের ফুটবল খেলা হয়।’
‘আমরা খুব খুশি হয়ে ফিরছি। আজ আমরা অনেক উঁচুমানের ফুটবল খেলতে পেরেছি,’ যোগ করেন তিনি।

