ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দিয়ে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’, অভিযোগ বিধবার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়ে ভূয়া কাবিননামা বানানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়ার কয়েক দিন পর ডেকে নিয়ে একটি কাগজে ওই নারীর টিপসই নেওয়া হয়। এরপর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেন পাঁচ সন্তানের এই জননী।

সম্প্রতি ফুলবাড়িয়ায় একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠকও হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন স্থানীয় জামায়াত কর্মী আবদুস ছাত্তার (৩৫)। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম আছে। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ নাতি-নাতনি আছে। তিনি পেশায় দিন মজুর।

কুদ্দুসের ছেলে আব্দুস সোবহান বলেন, তার বাবা এমন কোন ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারেন না । তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

ভুক্তভোগী নারীর ছোট ভাই জানান, ‘প্রায় ১২ বছর আগে তার বোনের স্বামী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালিয়েছে। তার নাতি-নাতনিও আছে। তিনি কাউকে বিয়ে করেননি।’
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার প্রসাধনী পণ্যের দোকান আছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক শামীম বলেন, ‘ছাত্তার বিগত নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্র কমিটির জামায়াতের সহযোগী সদস্য ছিলেন। স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত নাটক মনে হচ্ছে।’

কাজী গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বলে কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম আছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বিয়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না । তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Latest Posts