আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এর আগে একাধিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে কখনো টেস্ট খেলা হয়নি। বাংলাদেশ দল নিরপেক্ষ ভেন্যুতেই টেস্ট খেলছে প্রথমবার। নিরপেক্ষ ভেন্যু হলেও আফগানিস্তান সিরিজের ‘হোস্ট’ হওয়ায় উইকেট বানিয়েছে তারা। সেই উইকেট মাঠটির ঐতিহ্যের মতই ব্যাটিং বান্ধব হওয়ার আশাই করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
অধিনায়কের এই আশাবাদের পেছনে পরিসংখ্যান ও মাঠের পুরোনো ইতিহাসও সায় দিচ্ছে। শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম ঐতিহাসিকভাবেই ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৫টি টেস্টে প্রথম ইনিংসে গড় রান প্রায় ৩৬০। এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫৯৮ রানের বিশাল পাহাড় গড়ার কীর্তি যেমন আছে, তেমনি একক ব্যাটার হিসেবে এবি ডি ভিলিয়ার্স খেলেছিলেন ২৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।
তবে ম্যাচের সময় যত গড়াবে, এই মাঠের চিত্র ততই বদলাতে শুরু করে। ইতিহাস বলছে, আবুধাবিতে খেলা ১৫টি টেস্টের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে আগে ব্যাটিং করা দল, আর রান তাড়া করে জয় এসেছে মাত্র ২টি ম্যাচে। এর মূল কারণ প্রথম দুই-তিন দিন উইকেট যতটা ফ্ল্যাট থাকে, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে এসে তা ততটাই মন্থর ও স্পিন-বান্ধব হয়ে ওঠে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় চতুর্থ ইনিংসে দলগুলোর গড় রান (মাত্র ১৩৬) দেখে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়াও এক বড় অনুঘটক হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্সও আগেই সতর্ক করেছেন গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। কড়া রোদে উইকেট দ্রুত শুকিয়ে ধুলোময় রূপ নিতে পারে, যা শেষ দুই দিনে দুই দলের স্পিনারদের ম্যাচ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় বসিয়ে দেবে। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ভূমিকা তাই থাকবে বড়।
সব মিলিয়ে, টস জিতে আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়ে তোলাটাই হবে যেকোনো দলের প্রথম লক্ষ্য। শান্ত যদি সেই সুযোগ পান এবং প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলতে পারেন, তবে মন্থর উইকেটেও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা বাংলাদেশের জন্য সহজ হতে পারে।

