বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের দিকে, যেখানে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে এই বৈঠক শুরু হয়। বিবিসি ও আল জাজিরা খবরে এমনটি জানিয়েছে।
বৈঠকে শুরুর বক্তব্যে শি বলেন, সারা বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এমন এক রূপান্তর ত্বরান্বিত হচ্ছে যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও অশান্ত।
শি জিনপিং আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে এবং সংঘাতের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।
জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে বলেন যে, তার বন্ধু হওয়া একটি বড় সম্মানের বিষয়। তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকার সেরা বিজনেস লিডারদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্প বৈঠকে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করেন বলে জানান।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মোটরকেড অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শি জিনপিং তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই নেতা সেখানে একে অপরের সাথে করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করেন এবং উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সৌজন্য বিনিময় শেষে দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে গ্রেট হলের ভেতরে প্রবেশ করেন।
বর্ণাঢ্য এই অভ্যর্থনায় ২১ বার তোপধ্বনি এবং দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন লাল গালিচার (রেড কার্পেট) ওপর দিয়ে হাঁটার সময় দুই নেতা চীনা সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত কয়েক ডজন চিনা শিশু দুই দেশের পতাকা ও ফুলের তোড়া নেড়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে এবং লাফিয়ে লাফিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানায়।
ট্রাম্পের ৩৬ ঘণ্টার এই সফরে আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় হলো বাণিজ্য ও শুল্ক। চীন চায় বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা এবং বর্তমান শুল্ক যুদ্ধের অবসান। অন্যদিকে, ইরান ইস্যুটিও ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান থেকে চীনের তেল ও গ্যাস আমদানির ফলে ইরান যুদ্ধের শক্তি পাচ্ছে বলে ট্রাম্প মনে করেন। তিনি চাইছেন, চীন তার প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসুক। যদিও চিন সাধারণত অন্য দেশের দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করতে চায় না, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকছে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।

