নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্তদের অবস্থান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অবিলম্বে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আজ রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীরা এর আগেই সেখানে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দুপুর পৌনে ২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেডের ভেতরে থেকেই তাদের দাবির সপক্ষে স্লোগান দেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক নারী প্রার্থী বলেন, ‘নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা নিয়োগপত্র নিয়েই বাড়ি ফিরব।’

আরেক প্রার্থী জানান, সরকারি প্রাথমিক স্কুলে চাকরির আশায় চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর অনেকেই তাদের আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়োগপত্র না পাওয়ায় পরিবারের বোঝায় পরিণত হচ্ছি। এর দায় কে নেবে?’

সিলেট থেকে আসা আরেক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, ‘আড়াই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, অথচ এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারিনি। নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আমরা এই ফলাফলের আর কোনো রিভিউ চাই না। আমরা চাকরি চাই।’

অবস্থান কর্মসূচিতে ‘এক দফা এক দাবি, হাতে চাই নিয়োগপত্র’ এবং ‘আমরা কারা, আমরা শিক্ষক’—এমন নানা স্লোগান দেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গত ৯ জানুয়ারি তিন পার্বত্য জেলা বাদে সারা দেশের ৬১টি জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করে। কিন্তু এর পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়া এবং ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ পুরো ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) কথা ভাবছে।

Related Articles

Latest Posts