ফরিদপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুদিন পর ইউসুফ ফকির (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার সকালে ইউসুফের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে একটি পাটখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, ‘আজ সকালে পাট কাটতে বের হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ইউসুফের মরদেহ দেখতে পান।’
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে কয়েক দফা ফোন করেছিল।
ইউসুফের বাড়ি উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামে। তার বাবার নাম সেকেন ফকির। ইউসুফ পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন। চরমাধবদিয়া বাজারে দোকান রয়েছে। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছেন জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউসুফ স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করাতে একাই মমিনখার হাটে গিয়েছিলেন। এরপর কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি কেটে দেন। রাত ৯টার দিক থেকে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউসুফের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, খোঁজ করে তারা জানতে পারেন, নিখোঁজের আগে ইউসুফ হাট থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এবং এক ইজিবাইকচালক জানিয়েছেন, ইউসুফকে তিনি বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়েছিলেন।
শুক্রবার ভোররাতে ইউসুফের ভাতিজা সাইফুল ফকির ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‘গতকাল বিকেলে প্রথমে আমার জামাইয়ের মোবাইল নম্বর থেকে আমার মেয়ের ফোনে কল করে দুর্বৃত্তরা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চায়। তারা বলেন, এই টাকা দিলে আমার জামাইকে তারা অক্ষত ছেড়ে দেবে। এরপর নম্বরটি তারা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তারা একটি আইপি নম্বর থেকে দুইবার কল করে একই দাবি জানায়, তবে ঠিকানা জানতে চাইলে ফোন কেটে দেয়। এর পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,’ যোগ করেন তিনি।
জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
‘পরিবারের অভিযোগ মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত করছে,’ বলেন তিনি।

