পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ রোববার সকালে বীরভূমে নিজের বাড়ির কাছে দলীয় কার্যালয়ের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন তিনি।
দলীয় কার্যালয় থেকে একটি নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
রামপুরহাট কলেজে শিক্ষকতা করা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে দেখা হতো। উদ্ধার হওয়া নোটে তিনি কোনো ‘অন্যায় কাজে’ জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
নোটে লেখা ছিল, ‘দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথচ আমাকে হেয় করার জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে…।’
ধারণা করা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (টিআরডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কথিত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
The tragic death of former MLA and former Dy Speaker of WBLA Asish Banerjee is not merely heartbreaking, it should trouble the conscience of everyone who believes that politics and journalism must have boundaries.
A lifelong teacher and public servant, Asish Da devoted… pic.twitter.com/Es2kpQyfiZ
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা তদন্তের আওতায় রয়েছেন। কয়েকজন নেতা ও সাবেক বিধায়ককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোক জানিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনা রাজনীতি ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সীমারেখা থাকা উচিত বলে বিশ্বাসী প্রত্যেকের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই অপপ্রচারে অংশ নিয়েছেন, তাদের উচিত নিজেদের কথা ও কর্মকাণ্ডের মানবিক পরিণতি নিয়ে ভাবা। রাজনৈতিক লড়াই আসবে-যাবে, কিন্তু একটি জীবন হারিয়ে গেলে তা আর কখনো ফিরিয়ে আনা যায় না।’

