অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজকে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (জিএফএ) গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৭৩ বছর বয়সী কুইরোজের ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সহকারী হিসেবে দুই দফায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঘানা হতে যাচ্ছে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নবম জাতীয় দল এবং তিনি পঞ্চমবারের মতো কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাচ্ছেন।
কুইরোজ স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অটো অ্যাডোর, যাকে দুই সপ্তাহ আগে বরখাস্ত করা হয়। জার্মানির কাছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই অ্যাডো ছাঁটাই হন। তবে আসন্ন টুর্নামেন্টের পর কুইরোজের চুক্তির মেয়াদ কতদিন থাকবে, তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ঘানার ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য ব্ল্যাক স্টারদের প্রস্তুত করতে কোচ কুইরোজ অবিলম্বে তার কাজ শুরু করছেন।’
কুইরোজ এর আগে ২০১০ সালে পর্তুগাল এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে— টানা তিনবার ইরানকে বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া, প্রায় চার দশক দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, মিশর, কাতার ও ওমান জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ‘এল’ গ্রুপে ঘানার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও পানামা।
কুইরোজ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের তৃতীয় প্রবীণতম কোচ হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। এই তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হুগো ব্রুস ও চেক প্রজাতন্ত্রের মিরোস্লাভ কোবেক— যারা উভয়েই এবারের আসর চলাকালীন ৭৪ বছরে পা দেবেন।
আপাতত অটো রেহাগেলের দখলে রয়েছে কীর্তিটি। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গ্রিসের হয়ে ডাগআউটে দাঁড়ানোর সময় তার বয়স ছিল ৭১ বছর ৩১৭ দিন।
এছাড়া, কুইরোজ ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন। এই তালিকায় এই মুহূর্তে আছেন কেবল সার্বিয়ান কোচ বোরা মিলুতিনোভিচ। তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে মেক্সিকো, কোস্টারিকা, যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া ও চীনের দায়িত্বে ছিলেন।
কুইরোজের অধীনে অবশ্য ২০০২ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এসএএফএ) সঙ্গে মতবিরোধের জেরে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি পদত্যাগ করেন।

