কিছুদিন আগেও সবাই বলাবলি করছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এসে মানুষের সব কাজ কেড়ে নেবে এবং মানুষকে বেকার করে ছাড়বে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তেমনটা বলছে না।
অ্যাক্টিভট্র্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা ১০ হাজারেরও বেশি কর্মীর ডিজিটাল কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, মানুষ যখন এআই গ্রহণ করেছে, তখন তাদের কর্মজীবন আরও তীব্র ও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, মোটেও সহজ হয়নি।
এই নতুন প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা ইমেইল, মেসেজিং এবং চ্যাট অ্যাপে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছেন। তাদের বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহারের হারও ৯৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ইউসি বার্কলের হাস স্কুল অব বিজনেসের গবেষকরা দেখেছেন, এআই ব্যবহার করার ফলে কর্মীরা এমন সব কাজও নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, যা তারা আগে অন্যদের দিয়ে করাতেন। কারণ, এআইয়ের কল্যাণে কোডিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কাজগুলো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তারা সন্ধ্যায়, ছুটির দিনে, এমনকি ওয়েটিং রুমে বসেও কাজের ফাঁকফোকর তৈরি করে নিচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করছেন এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন বট প্রোগ্রামকে তদারকি করছেন।
গবেষণাগুলো থেকে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট হয়। এআই ব্যবহার করে মানুষ যে সময়টুকু বাঁচাচ্ছে, সেই সময়ে তারা বসে থাকছে না। বরং সেই বেঁচে যাওয়া সময়ে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে।
কর্মী এবং তাদের বসদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে এআই। দিনে ঠিক কতটা কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে তাদের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিটি কর্মঘণ্টা এখন আরও ব্যস্ত এবং একইসঙ্গে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।
অ্যাক্টিভট্র্যাকের গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের একটানা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময় ৯ শতাংশ কমে গেছে। এই মানসিক অবস্থার একটি নামও তৈরি হয়েছে—‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’।
কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও ইতিহাসের দিকে তাকালে বিষয়টি বেশ স্বাভাবিক। যখনই মানুষের শ্রম কমানোর কোনো নতুন প্রযুক্তি এসেছে, বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের জীবনকে সহজ করবে।
কিন্তু বাস্তবে মানুষ সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনকে আরও বেশি কর্মব্যস্ত করে তুলেছে। উড়োজাহাজ, ট্রেন বা গাড়ি যাতায়াতের সময় ও শ্রম বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভ্রমণ করতে শুরু করেছে।
এই উদীয়মান এআই যুগের একটি মূলনীতি হলো, যখন বুদ্ধিমত্তা সহজলভ্য হয়ে যায়, তখন মানুষের ইচ্ছাশক্তির মূল্য বেড়ে যায়। এই যুগে তারাই পার্থক্য গড়ে দেবেন, যারা শুধু বিশ্রাম খোঁজার জন্য এআই ব্যবহার করবেন না। বরং নিজেদের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করতে এআইকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাবেন।
অন্য কথায়, মানুষকে এখন আর তার মেধা দিয়ে আলাদা করা যাবে না। মানসিক পরিশ্রমের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।
এআইয়ের এই যুগেও কারা সফলভাবে টিকে থাকবেন, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু মানুষের মধ্যে ‘নিড ফর কগনিশন’ বা চিন্তাভাবনা করার তীব্র চাহিদা থাকে। এরা কঠিন কাজ করতে এবং মস্তিষ্ক খাটাতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে আছেন ‘কগনিটিভ মাইজার’ বা চিন্তার কৃপণরা মস্তিষ্ক খাটাতে পছন্দ করেন না এবং সুযোগ পেলেই চিন্তার কাজ এড়িয়ে চলেন।
এই দুইয়ের মাঝামাঝি আছেন মাঝারি ঘরানার মানুষ। তারা শুধু তখনই গভীরভাবে চিন্তা করেন, যখন বিষয়টি তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বভাবগতভাবে এটি তারা উপভোগ করেন না। মেধার সঙ্গে ‘নিড ফর কগনিশনের’ সম্পর্ক থাকলেও এটি পুরোপুরি এক বিষয় নয়। আবার অনেক অত্যন্ত মেধাবী মানুষ আছেন, যারা পরিশ্রম করতে ভালোবাসেন না।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছে আটলান্টিক।
যেসব মানুষের চিন্তাভাবনা করার আগ্রহ কম, তারা এআই ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা করার পরিমাণ আরও কমিয়ে দেবেন। তাদের সবচেয়ে বড় লাভ হবে, এআইয়ের সাহায্যে খুব দ্রুত কাজ শেষ করে অনেক বেশি উৎপাদনশীল হতে পারবেন।
কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হবে, কাজ সহজ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মানসিক সক্ষমতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।
মানুষ তখনই সবচেয়ে ভালো শেখে, যখন তারা একটি ‘অপটিমাল ডিফিকাল্টি’ বা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকে। অর্থাৎ কাজটি এমন হওয়া উচিত, যা খুব বেশি কঠিনও নয়, আবার একদম সহজও নয়।
এআই এই কম পরিশ্রমী মানুষদের সেই কাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সময় মানুষের মস্তিষ্কের সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
পসিবিলিটি সায়েন্সেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিভিয়েন মিং বলেন, মানুষ যখন এআই ব্যবহার করে, তখন তাদের মস্তিষ্কের গামা ওয়েভ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ।
এসবিএস সুইস বিজনেস স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করেন তাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিট এআইয়ের সাহায্যে সমস্যা সমাধানের পর যখন তাদের থেকে এআই সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন তারা এআই ছাড়া কাজ করা মানুষদের চেয়ে বেশি খারাপ পারফর্ম করে এবং খুব সহজেই হাল ছেড়ে দেয়।
এন্ডোস্কোপি বিশেষজ্ঞদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবহারের আগে তারা ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্ষত শনাক্ত করতে পারতেন। এআই ব্যবহারের পর সেটি কেড়ে নেওয়া হলে তাদের শনাক্তকরণের হার কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।
ব্যাপারটি অনেকটা জিপিএস ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর মতো। জিপিএস যেমন দিক নির্ণয়ের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, এআইও ঠিক তেমনি মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
যাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা করার মাঝারি চাহিদা আছে, তারা বুঝবেন যে এআই তাদের মানসিক সক্ষমতা ফাঁপা করে দিচ্ছে। এই সম্ভাবনাটি তাদের চিন্তিত করবে এবং তারা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করবেন যে তারা এর শিকার হবেন না।
কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রচণ্ড চাপ ও ব্যস্ততার মাঝে তারা একসময় ঠিকই এর ফাঁদে পা দেবেন। এআই অত্যন্ত প্রলুব্ধকারী একটি প্রযুক্তি।
এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষকে চ্যাটজিপিটি দিয়ে পর পর কয়েকটি প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়, তখন তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে শুধু ‘কাট-পেস্ট’ করতে শুরু করে।
প্রযুক্তি মানুষের মানসিকতাকে ‘কালটিভেশন’ বা কষ্ট করে কিছু শেখা থেকে সরিয়ে ‘অপ্টিমাইজেশন’ বা সবচেয়ে সহজে কাজ হাসিল করার দিকে নিয়ে যায়।
পুরো প্রযুক্তি শিল্পটিই অপ্টিমাইজেশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ বাধাহীন করা। আধুনিক প্রযুক্তি মূলত একজন মানুষকে মানসিক বডি-বিল্ডার থেকে মানসিক অলসে পরিণত করতে চায়।
এই অপ্টিমাইজার গ্রুপের মানুষরাও একসময় কৌতূহল হারাতে শুরু করবেন।
সাংহাই টেক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই দিয়ে একটি কাজ করার পর যখন অংশগ্রহণকারীদের এআই ছাড়াই অন্য একটি কাজ করতে বলা হয়, তখন তাদের অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা ১১ শতাংশ কমে যায় এবং একঘেয়েমি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।
এছাড়া তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ভুল ধরতে ব্যর্থ হবেন।
ওয়ার্টন স্কুলের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এআইয়ের দেওয়া ভুল উত্তরকে সঠিক বলে মেনে নেয়।
রিভেন্ডেল স্কুলের প্রধান ক্রিস সিব্বেন একে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অব ডিটাচমেন্ট’ বা বিচ্ছিন্নতার শিল্পায়ন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে কাজ করার অর্থ হলো কাজের পেছনের সংগ্রাম ও শিক্ষাকে এড়িয়ে শুধু ফলাফলটাই চাওয়া। এতে একজন মানুষ অলস হওয়ার চেয়েও বেশি যা হয়, তা হলো সে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এবার আসি সেই মানুষদের কথায়, যাদের জ্ঞানীয় চাহিদা অনেক বেশি। এআই যুগে তারা অনেকটা ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো আচরণ করবেন। ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য গাড়ি একটি চমৎকার প্রযুক্তি হলেও কিছু মানুষ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই কষ্ট করে সেই পথ দৌড়ে পার হন।
উচ্চজ্ঞানের চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও ঠিক এমনই। তারা প্রজেক্টের ডেডলাইন ও চাপের মাঝেও নিজেদের মানসিক সক্ষমতা দিয়ে সমাধান বের করতে ভালোবাসেন। তারা এআইয়ের যুগে নিজেদের কাজকে আরও মৌলিক ও ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করবেন, যাতে সেটি তাদের নিজস্ব সত্তার প্রতিফলন হয়। তারা এআইকে ব্যবহার করবেন নিজেদের সক্ষমতা কমানোর জন্য নয়, বরং তা বাড়ানোর জন্য।
এই মানসিক ম্যারাথনাররা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
এআইয়ের কাছে সরাসরি উত্তর না চেয়ে কোনো বিষয়ের পটভূমি বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মানুষের অনুপ্রেরণা ও শেখার ক্ষমতা কমে না।
বটের কাছে যাওয়ার আগে একটি খালি কাগজে নিজের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত লিখে নিন। এরপর আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এআইকে নির্দেশ দিন।
এআই দিয়ে কোনো কাজ করার পর, এমন একটি কাজ করুন যেখানে এআইয়ের প্রয়োজন নেই। এটি আপনার সৃজনশীল চিন্তার পেশিকে সচল রাখবে।
সাধারণ চ্যাটবট শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু এআই টিউটররা শেখার ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণা বাড়ায়। বটের কাজ শুধু উত্তর দেওয়া নয়, বরং তাদের এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যেন তারা একজন ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের মতো মানসিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সাধারণ ইমেইল লেখার কাজ এআইকে দিন। কিন্তু নিজের কোনো প্রবন্ধ বা মেমো এআইকে দিয়ে লেখাবেন না।
এআইকে দিয়ে সরাসরি সমস্যার সমাধান না করিয়ে তাকে লাইব্রেরিয়ানের মতো ব্যবহার করুন। যেমন, শিশু বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে এআইকে বলতে পারেন জিন পিয়াজেঁ এবং এরিক এরিকসনের মধ্যে একটি কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করতে।
ভবিষ্যতের এই চিত্রটি একটি চরম জ্ঞানীয় মেরুকরণের দিকে ইঙ্গিত করছে। একদল মানুষ এআই ব্যবহার করে আরও বেশি চিন্তা করবেন এবং উৎপাদনশীল ও সুখী হবেন।
অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ এআই ব্যবহার করে চিন্তা করা কমিয়ে দেবেন এবং এতে তাদের চিন্তাশক্তি ও নিজস্ব সৃজনশীলতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।
তবে এই ভবিষ্যৎ অবশ্যম্ভাবী নয়। মানুষের ইচ্ছাশক্তি পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তথ্য মুখস্থ করানো এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এআই যুগে স্কুলগুলোকে বুদ্ধিমত্তার বদলে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দিতে হবে।
যখন আমাদের চারপাশে এমন সব যন্ত্র থাকবে যারা সব বিষয়ে জানে, তখন মানুষকে আলাদা করবে তার কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং জ্ঞানকে সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। মূল চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের ভেতরে কৌতূহল ও জটিল বিষয় নিয়ে ভাবার ইচ্ছাকে জাগিয়ে তোলা।
এডওয়ার্ড ডেসি এবং রিচার্ড রায়ানের ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ অনুসারে, মানুষ তখন সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয় যখন তাদের স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বোধ তৈরি হয়। মহান ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করলে বা চমৎকার শিল্পকর্ম দেখলে এই অনুপ্রেরণা বাড়ে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানুষের আসল পরিচয় নতুন করে চেনা যাচ্ছে। এতদিন মনে করা হতো ‘বুদ্ধিমত্তা’ই মানুষকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে, কিন্তু যন্ত্রের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।
আসলে মানুষের আসল পরিচয় তার আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং স্বপ্নের মধ্যে। যন্ত্রের কোনো জীবন নেই, তাই তার কোনো পিছুটান বা ভবিষ্যতের স্বপ্নও নেই। কম্পিউটার কেবল সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু মানুষের জীবন মানে শুধুই সমস্যার সমাধান নয়, বরং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ।
মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভেতরের তাড়না, যা তাকে কষ্ট করতে এবং বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। তাই যন্ত্রনিয়ন্ত্রিত এই পৃথিবীতে মানুষের মর্যাদা ও স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের স্বপ্ন দেখা এবং লক্ষ্য স্থির করা বন্ধ করা যাবে না।

