কক্সবাজারে পাহাড়-দেয়াল ধস ও পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু, ২ দিনে প্রাণহানি ১৩

কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ২ জনের এবং গর্তের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে গত ২ দিনে জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

আজ মঙ্গলবার সদর উপজেলা, উখিয়া ও মহেশখালীতে তিনজন মারা গেছেন। তারা হলেন—সদর উপজেলার দরিয়ানগরের নাসিমা আক্তার (৩০), উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মো. মানিক মিয়া (৪০) ও মহেশখালী উপজেলার কুতুবজম ইউনিয়নের ১ বছর ৯ মাস বয়সী শিশু রুমাইসা খাতুন।

বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ায় বাড়ির মাটির দেয়াল ধসে মারা যান মানিক।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে খাবার খাচ্ছিলেন মানিক। এসময় বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া একটি মাটির দেয়াল ধসে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এর আগে, দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে দরিয়ানগরে পাহাড়ধসে মারা যান নাসিমা আক্তার।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পাহাড় ধসে বাড়ির ওপর পড়লে এতে চাপা পড়েন জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার। স্থানীয়রা ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক নাসিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গুরুতর আহত জসিম উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানান ওসি।

এছাড়া, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজম ইউনিয়নের সোনাদিয়া পূর্ব পাড়ায় বৃষ্টিতে জমে থাকা গর্তের পানিতে ডুবে শিশু রুমাইসার মৃত্যু হয়। মহেশখালীর ওসি আব্দুস সুলতান বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির মামা মো. ইমরান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে বেশ কয়েকটি গর্ত পানিতে ভরে গিয়েছিল। খেলতে গিয়ে একটি গর্তে পড়ে যায় রুমাইসা। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

গতকাল সোমবার পাহাড় ও ভূমিধসে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনসহ জেলায় মোট ১০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল মান্নান।

তিনি জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার—দুইদিনে কক্সবাজারে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, ‘একটানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।’

তার মতে, একটানা ভারী বৃষ্টিপাত ছাড়াও পাহাড় কেটে বসতি গড়া ও অস্থিতিশীল ঢালের ওপর বাড়ি নির্মাণই এসব হতাহতের কারণ।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান।

Related Articles

Latest Posts