এলেঙ্গায় উন্নয়নকাজ ও সম্ভাব্য বৃষ্টিতে উত্তরে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

আসন্ন ঈদুল আজহায় টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেতুর পূর্ব প্রান্তের এলেঙ্গায় চলমান মহাসড়ক উন্নয়নকাজ ও সম্ভাব্য বৃষ্টিকে এ আশঙ্কার কারণ হিসেবে দেখছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে ছুটি কম থাকা, বিপুলসংখ্যক মানুষের একসঙ্গে বাড়ি ফেরা ও নিয়মিত যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী অনেক ট্রাক যুক্ত হওয়াও ভোগান্তির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হয়ে পড়া ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও এ আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রতি বছরের মতো গত রোজার ঈদের আগের শেষ ২ দিনে এ মহাসড়কে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষরা।

হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের জেলাগুলোর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলাসহ মোট ২৩টি জেলার অন্তত ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন যমুনা সেতু অতিক্রম করে। ঈদের সময় এই যানবাহনের সংখ্যা তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন পারাপার হতে না পেরে যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ঘরমুখো লাখো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কর্তৃপক্ষ নানা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা নিলেও ভোগান্তি থেকেই যায়।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, কোরবানির ঈদে পশুবাহী গাড়ি ধীরে ধীরে চলে। এ ছাড়া লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাকেও পশু পরিবহন করা হয়। এজন্য যাত্রীবাহী বাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। এতে যানজট সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত তাদের আওতাধীন ৪০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা ভালো। তবে নিয়মিত সংস্কারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদে মহাসড়কে যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত থাকবে।

ঢাকা-রাজশাহী রুটের বাসচালক শহিদুল ডেইলি স্টারকে বলেন, মহাসড়কের অবস্থা মোটামুটি থাকলেও এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান। এতে এবার ঈদেও এখানে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।

সাউথ এশিয়ান সাবরিজিওনাল ইকোনোমিক কোঅপারেশন (সাসেক-২) প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গায় ওই ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ করছে আব্দুল মোমেন লিমিটেড। ২০২২ সালে শুরু হওয়া কাজটি ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

সম্প্রতি পরিদর্শনে দেখা গেছে,  এলেঙ্গা মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

 

জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে ২৪ মে’র পর কাজ বন্ধ থাকবে। আর ভেতরের অংশে কাজ চললেও দুপাশে মহাসড়কে যান চলাচলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ ডেইলি স্টারকে বলেন, এলেঙ্গায় অসমাপ্ত ফ্লাইওভারের কাজ ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে আমরা সার্বক্ষণিক মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করব।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ঈদে সেতুর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহন পারাপারের জন্য অতিরিক্ত রেকার সংগ্রহ করে রাখাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রোজার ঈদে সেতুর ওপর ৫০০ মিটার পর পর রেসকিউ পার্টি মোতায়েন করা হলেও এবার ঈদে তা কমিয়ে ৩০০ মিটার পর পর রাখা হবে, যেন সেতুর ওপর কোনো গাড়ি বিকল বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার বা সরিয়ে নেওয়া যায়।

Related Articles

Latest Posts