নাহিদ রানার বলে টানা তিন টেস্টে আউট হলেও তার বিপক্ষে নিজের কোনো দুর্বলতা থাকার কথা উড়িয়ে দিলেন বাবর আজম। তবে বাংলাদেশের তরুণ এই গতিময় পেসারের প্রশংসা করতে কোনো দ্বিধা করলেন না তিনি। পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটারের মতে, দুর্দান্ত গতির সঙ্গে চমৎকার নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ে দিন দিন বোলিংয়ে উন্নতি করে চলেছেন নাহিদ।
রোববার সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় ক্রিজে যান বাবর। শুরু থেকেই সাবলীল ঢঙে ছিলেন তিনি। অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও থিতু হয়ে দৃষ্টিনন্দন কিছু বাউন্ডারি মারেন এই ডানহাতি।
পঞ্চম উইকেটে আগা সালমানের সঙ্গে বাবরের জুটিও জমে যায়। ওয়ানডের গতিতে রান তুলে তিনি ফিফটি পূর্ণ করেন ৬৩ বলে। তাকে থামাতে নাহিদের দ্বারস্থ হন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ফলও মিলে যায়। অন ড্রাইভ খেলতে গিয়ে গড়বড় করে বসেন দারুণ খেলতে থাকা বাবর। মিড অনে মুশফিকুর রহিম সহজ ক্যাচ নিলে ৮৪ বলে ৬৮ রান করে মাথা নাড়াতে নাড়াতে মাঠ ছাড়েন তিনি।
টেস্টে এখন পর্যন্ত নাহিদের করা ৩৯ বল মোকাবিলা করেছেন বাবর। ২২ রান সংগ্রহ করতে পারলেও তিনবার তাকে পরাস্ত হতে হলো।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদের বিপক্ষে হিমশিম খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবর জবাব দেন, ‘না, আমার তা মনে হয় না। বর্তমানে লাল বলের ক্রিকেটে সে ভালো ফাস্ট বোলারদের একজন। এখন প্রায় প্রতি দলেই ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতির বোলার থাকে, যাদের মুখোমুখি আপনাকে হতে হয়। আপনাকে সেই পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করতে হয়। আমি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করি। কখনও আপনি রান পাবেন, আবার কখনও আউট হয়ে যাবেন।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে ২৩ বছর বয়সী এই পেসারকে প্রশংসা ভাসান তিনি, ‘সে খুবই প্রতিভাবান এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো তার পেস। সে অসাধারণ, (বলের ওপর) তার নিয়ন্ত্রণও চমৎকার এবং দিন দিন সে নিজের বোলিংয়ে উন্নতি করছে। (উজ্জ্বল) ভবিষ্যতের জন্য তার প্রতি শুভকামনা।’
সিলেট টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের হাতে। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদের সংগ্রহ ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন শান্ত ৩২ বলে ১৩ রানে। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ১০টি চারের সাহায্যে ৬৪ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। দিনের শেষ বলে আউট হওয়া মুমিনুল হক ৬০ বলে করেন ৩০ রান।
এর আগে চা বিরতির পর পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৩২ রানে আটকে দিয়ে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ। সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রানে। স্বাগতিকদের হাতে জমা রয়েছে আরও ৭ উইকেট।

