২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়কে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন। ইরান বিদায় নেওয়ার পর তিনি ‘হ্যাপি ড্যান্স’ করেছেন বলে মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
স্পোর্টস বিজনেস জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ নিরাপত্তা–বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে মুলিন বলেন, ইরানের বিদায়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। ‘ওরা বিদায় নিয়েছে, এতে আমি ভীষণ আনন্দিত। তারা দেশে ফিরে যাচ্ছে, এতে আমি সত্যিই খুশি। পুরো টুর্নামেন্টে তাদের নিয়েই আমাদের সবচেয়ে বেশি ঝামেলা সামলাতে হয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রতিনিধিদল আনতে চেয়েছিল, তাদের ‘প্রায় অর্ধেকের’ সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পর্ক ছিল। যদিও ইরান ফুটবল ফেডারেশন এই অভিযোগকে ‘কোনো প্রমাণ ছাড়াই করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মুলিন আরও বলেন, ‘ওরা যখন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেল, তখন আমি এতটাই খুশি ছিলাম যে হয়তো একটা-দুটো গানও গেয়েছি, এমনকি “হ্যাপি ড্যান্স”ও করেছি।’
গ্রুপ ‘জি’-তে তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল ইরান। তবে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় তারা নবম স্থানে থাকায় শেষ ষোলোয় উঠতে পারেনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলই ইরানের বিদায় নিশ্চিত করে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান দলের ওপর একাধিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
প্রথমে অ্যারিজোনার টাকসনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি পরিবর্তন করে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় যেতে হয় ইরানকে। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচের আগে সীমিত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল দলটির জন্য।
বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েই, ‘আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেনি। ভবিষ্যতে কোনো আয়োজক যেন কোনো দল বা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে ফিফার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেছে। এত বাধা-বিপত্তির পরও আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে বিশ্বের মানুষ ইরান ও আমাদের দলকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচের পর ইরান দল ড্রেসিংরুমে আয়োজকদের জন্য হাতে লেখা বার্তা রেখে যায়। সিয়াটলে রেখে যাওয়া বার্তায় তারা লিখেছিল, ‘পয়েন্ট হয়তো অনেকভাবেই জেতা যায়। একটি দল গ্রুপও পেরোতে পারে। কিন্তু ন্যায়বিচার ও সম্মানের মাধ্যমেই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়। ফেয়ার প্লে শুধু ফুটবলের নিয়ম নয়, এটাই এই খেলার আত্মা।’

