আর দুদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য কমে যেতে পারে। নির্বাচন তার দলের মাথাব্যথার কারণ হলেও ট্রাম্প বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে।
শনিবার তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তবে আরও দু-একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি আছে। এ বিষয়টির ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
আজ রোববার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
হামলার হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে আপনারা জানেন, তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে। তাই নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর কোনো তাড়া নেই ওয়াশিংটনের।
ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। এখনো আমার মনে হয়, এক বা দুটি স্থাপনার ব্যবস্থা নেওয়া বাকি আছে। তবে আমরা চাইলে ১০ মিনিটেই তা করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা ভাবতে পারেন। এটিরও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই সেটা করতে পারি।’
সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলেও ওই পাহাড়ের গভীরে ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনা থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়। তবে সেখানে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
শনিবার মর্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতেও যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে, এমন হুমকির পর শনিবার দেশ দুটিকে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবার হামলা শুরু হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান সরকারকে উৎখাতের জন্য ‘ঐতিহাসিক ও একবারই আসা সুযোগের’ কথা বলেছিলেন।
দুই দেশের নির্বাচন এ সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ইসরায়েলে মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো নতুন সরকার গঠিত হয়নি।
মোজতবা খামেনি দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বলেছেন, ‘যেকোনো ধরনের বা যেকোনো মাত্রার হুমকির বিপরীতে তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে জবাব দিতে হবে।’
যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। তবে এসব আলোচনা থেকে এখনো স্থায়ী কোনো সমঝোতা আসেনি।

