ইতালিতে বৈধ অভিবাসন উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাম পর্যায়ে কর্মশালার প্রস্তাব দিলো রোম

বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ অভিবাসন উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাম পর্যায়ে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছে, এই কর্মশালায় যৌথভাবে অংশগ্রহণে ইতালি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অ্যান্তোনিও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন।

শাহে আলম জানান, এ সময় আরও কিছু বিষয় নিয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূতের আলোচনা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার মানুষ, যা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘উনি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন যে, অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সমুদ্রপথে দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়। যেটা খুব দুঃখজনক।’

‘এ ব্যাপারে উনি স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন; শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ এই অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-ইতালি যৌথভাবে ওয়ার্কশপ করে আমরা যেন মানুষকে বোঝাই—অবৈধভাবে (ইতালি) যাওয়ার দরকার নাই। যেহেতু তাদের পরিবার-পরিজন থাকে, বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে। এই সুযোগটা যেন তারা কাজে লাগায়,’ যোগ করেন তিনি।

‘ইতালির রাষ্ট্রদূত আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বৈধভাবে ১০ হাজার শ্রমিকের ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ আছে। পরিবারসহ এই সংখ্যা ১২ হাজার।’

রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করেন এবং তার সিংহভাগ শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের। এই জেলার নাম উনার মুখস্থ। উনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে ‘দালাল’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন যে, দালালের মাধ্যমে অনেকে ইতালি যাচ্ছে।

‘আমরা এটা দালাল বলিনি, আমরা বলছি অবৈধ এজেন্ট,’ যোগ করেন তিনি।

মিলান সিটি বাংলাদেশে ফুড সেফটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে শাহে আলম বলেন, ‘ফুড সেফটি (খাবার অপচয় রোধ) নিয়ে কাজ করতে উনারা একটি শহর নির্বাচন করে দিতে বলেছিলেন, একটি আরবান সিটির সঙ্গে মিলান যৌথভাবে কাজ করবে। আমরা খুলনা সিটিকে চয়েস দিয়েছি। খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তারা এ বিষয়ে কাজ করতে চায়।’

‘বাংলাদেশের স্থপতিদের তারা প্রশিক্ষণ দিতে চায় এবং স্থপতিদের নিয়ে কাজ করতে চায়। সিটি মেয়র এবং কিছু স্থপতিদের উনারা সে দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা বলেছি, সংখ্যা জানালে আমরা পাঠিয়ে দেবো,’ যোগ করেন পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতালির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

শাহে আলম আরও জানান, ইতালি প্রশিক্ষক পাঠাবে এবং সেখান থেকে আমাদের কিছু প্রশিক্ষক তৈরি হবে। পরবর্তীতে তারা দেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবে।

Related Articles

Latest Posts