আয়কর রিটার্নের খুঁটিনাটি: কার জন্য বাধ্যতামূলক, দেরি ও ভুল হলে করণীয় কী

আয়কর রিটার্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। রিটার্ন দাখিল কার জন্য বাধ্যতামূলক, কার জন্য নয়, কিংবা দেরিতে রিটার্ন দিলে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়, ভুল রিটার্ন কীভাবে সংশোধন করা যায় এবং অসম্পূর্ণ রিটার্ন দাখিল করলে কী পরিণতি হতে পারে, এসব প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে।

আয়কর আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। একজন করদাতার জন্য তাই শুধু রিটার্ন দাখিল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক ব্যক্তি, সঠিক সময়, সঠিক ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যথাযথ তথ্য—সবকিছু মিলিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন দাখিল করা জরুরি। এমনকি রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হাতে পাওয়ার পরও সেটি আইনের চোখে সম্পূর্ণ নাও হতে পারে, এই বাস্তবতাও অনেকের অজানা।

কারা রিটার্ন দাখিল করবেন

আয়কর আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আয় যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করমুক্ত আয় সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তবে শুধু আয় করযোগ্য হলেই নয়, আরও কিছু পরিস্থিতিতেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলেও রিটার্ন দিতে হবে।

এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি ও সত্তার ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানি, কোনো কোম্পানির অংশীদার-পরিচালক বা অংশীদার-কর্মচারী, ফার্ম, ফার্মের অংশীদার, ব্যক্তিসংঘ, ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকের পদধারী কর্মচারী, গণকর্মচারী এবং বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে, এমন অনিবাসী ব্যক্তি।

কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে এমন আয় পান, যা আইনের অংশ ৬-এর প্রথম অধ্যায়ের অধীন কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধাপ্রাপ্ত, তাহলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ২৬১ ধারা অনুযায়ী, করদাতা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি এবং ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, যাদের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়, তারাও এই বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়েন।

কারা রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন

আইনে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষায় পাঠদানকারী প্রাথমিক বা প্রাক্‌-প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যদি তাদের ইংরেজি ভার্সন কারিকুলাম না থাকে।

এ ছাড়া, অব্যাহতির তালিকায় রয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। কোনো আইন বা সরকারি আদেশে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, কমিশন, ইনস্টিটিউট, বোর্ড, একাডেমি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান, যারা কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং পরিচালন ব্যয়ের আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত পায়, তারাও এই ছাড়ের আওতায় পড়ে। এতিমখানা, অনাথ আশ্রম, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি, তহবিল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় পড়তে পারেন।

রিটার্ন কীভাবে দাখিল করতে হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

এ ছাড়া, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ছাড়া অন্যান্য করদাতাকে ১৬৯ ধারা অনুযায়ী বোর্ড নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। শুধু মূল ফরম পূরণ করলেই হবে না; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তফসিল, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও দিতে হবে। যেসব করদাতার ৭৩ ধারা অনুযায়ী নিরীক্ষিত আয় বিবরণী ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, বোর্ড নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের প্রমাণ, আয় পরিগণনাপত্র এবং উৎসে করের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

কোনো আয়বর্ষে আন্তর্জাতিক লেনদেন থাকা সত্তার ক্ষেত্রে ২৩৮ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত নির্ধারিত বিবরণীও রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করতে হয়। অনিবাসী বাংলাদেশি চাইলে নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে কর পরিশোধের প্রমাণসহ রিটার্ন জমা দিতে পারেন। মিশন দাপ্তরিক সিলসহ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দিয়ে রিটার্নটি বোর্ডে পাঠাবে।

রিটার্নে কার সই প্রয়োজন

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে করদাতা নিজেই রিটার্নে সই করবেন। তিনি বাংলাদেশে না থাকলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা আইনগতভাবে উপযুক্ত ব্যক্তি সই করতে পারেন। আইনগতভাবে বৈধ কারণে কোনো করদাতা স্বাভাবিক কাজ করতে অপারগ হলে তার অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধি সই করতে পারেন। হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিবারের কর্তা সই করেন। কর্তা বাংলাদেশে না থাকলে বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অপারগ হলে পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য সই করতে পারেন।

কোম্পানি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে মুখ্য কর্মকর্তা, ফার্মের ক্ষেত্রে নাবালক অংশীদার ছাড়া যেকোনো অংশীদার এবং অন্য কোনো সংঘের ক্ষেত্রে সদস্য বা মুখ্য কর্মকর্তা সই করতে পারেন। অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে বা তার পক্ষে সই করার আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি সই করবেন।

বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন চাওয়া যেতে পারে

১৭২ ধারা অনুযায়ী, উপ-কর কমিশনার নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিতে পারেন। দাখিল করা রিটার্ন অসম্পূর্ণ মনে হলে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা কোনো অর্থবছরে বন্ধ হলে বা মালিকানা হস্তান্তরের সম্ভাবনা থাকলে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি বাংলাদেশ ত্যাগ করলে বা ত্যাগের সম্ভাবনা থাকলে, করদাতা কোনো করবর্ষের কর এড়িয়ে গেলে বা রিটার্ন দাখিল না করলে, অংশীদারি ফার্মের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন হলে বা নতুন উত্তরসূরি ফার্ম সৃষ্টি হলে এ ধরনের নোটিশ আসতে পারে। কেউ মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনোভাবে অন্যের ব্যবসার উত্তরাধিকারী হলেও রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৭০ ধারা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ—সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—কর প্রণোদনা বা করছাড় পাবেন। তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

বিপরীতে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে

১৭৪ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিল করা রিটার্ন কিংবা করবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা রিটার্ন, উভয়ই ‘বিলম্ব রিটার্ন’ হিসেবে ধরা হতে পারে। স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দিলে ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, প্রযোজ্য কর পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য করের ১০ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

করবর্ষ পার হওয়ার পর নোটিশের ভিত্তিতে বিলম্ব রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর হবে পরিশোধযোগ্য করের ১৫ শতাংশ বা ১০ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি।

এ ছাড়া, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এর নির্দিষ্ট কয়েকটি দফায় উল্লিখিত আয় ও চাকরি থেকে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো আয়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব রিটার্নে কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হলে যেভাবে কর নির্ধারণ হতো, সেভাবেই কর পরিগণনা করে পরিশোধ করতে হতে পারে। অর্থাৎ দেরির মাশুল হিসেবে শুধু অতিরিক্ত করই নয়, নির্দিষ্ট কর অব্যাহতির সুবিধাও হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রিটার্নে ভুল হলে করণীয়

রিটার্ন দাখিলের পর ভুল ধরা পড়লে ১৭৫ ধারা অনুযায়ী, সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যেতে পারে। স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হওয়া রিটার্নে করদাতা নিজে ত্রুটি দেখতে পেলে, কর মামলা অডিটের সময়, উপ-কর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণের সময়, নির্দিষ্ট নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা আপিল কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সেট-এসাইড আদেশের পর দাখিল করা রিটার্নও সংশোধিত রিটার্ন হিসেবে গণ্য হয়।

তবে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের এই সুযোগ সীমাহীন নয়। আইন অনুযায়ী, মূল রিটার্ন দাখিলের তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় বা তার আগে প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত রিটার্ন দিয়ে একই করবর্ষের মূল রিটার্নে দেখানো কর-দায় কমানো যাবে না। একইভাবে দালিলিক প্রমাণ ছাড়া মূল রিটার্নে দেখানো আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তন বা স্থানান্তর করা যাবে না।

অসম্পূর্ণ রিটার্নের ঝুঁকি

১৭৬ ধারা অনুযায়ী, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় আইন বা বোর্ডের নির্দেশনা না মানলে রিটার্নটি অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, উপ-কর কমিশনার কারণ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় তথ্য, দলিল, বিবৃতি বা যাচাই নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিলের জন্য নোটিশ দিতে পারেন।

করদাতা নোটিশের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট বিধান পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ এমনভাবে বিবেচনা করা হতে পারে যেন রিটার্নটি দাখিলই করা হয়নি। এমন ক্ষেত্রে উপ-কর কমিশনার রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর করার নোটিশ করদাতাকে পাঠাবেন এবং পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকেও লিখিতভাবে অবহিত করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, করদাতা যদি নোটিশ অনুযায়ী সব ঘাটতি পূরণ করেন, তাহলে রিটার্নটি মূল দাখিলের তারিখ থেকেই সম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে উপ-কর কমিশনার রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করে নতুন করে রিটার্ন দাখিলের নোটিশ দিতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, শুধু প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া মানেই রিটার্নটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নয়। রিটার্ন গ্রহণ করা হয়েছে আর রিটার্ন আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ, এই দুটি বিষয় এক নয়।

করদাতার করণীয়

রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতার প্রথম কাজ হলো, তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা নিশ্চিত করা। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ফরমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন। রিটার্নে ভুল হলে দ্রুত আইনসম্মত পদ্ধতিতে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর কোনো নোটিশ এলে তা উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জবাব ও কাগজপত্র দাখিল করা জরুরি।

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলে, নির্ধারিত ফরমে, সঠিক সময়ে ও প্রয়োজনীয় সব দলিলসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে উপ-কর কমিশনারের নোটিশের ভিত্তিতেও রিটার্ন দিতে হতে পারে। আবার নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কর-দায়ের পাশাপাশি কিছু কর অব্যাহতির সুবিধাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে। রিটার্নে ভুল থাকলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও সংশোধনের নামে মূল রিটার্নের কর-দায় কমানো কিংবা দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

করদাতাদের মনে রাখা দরকার, রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া আর আইন অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ রিটার্ন দাখিল করা এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলের ঘাটতি থাকলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ, এমনকি ক্ষেত্র-বিশেষে বাতিল বা অকার্যকরও বিবেচিত হতে পারে। তাই রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক সময়ে দাখিল, সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় দলিলসহ পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল।

 

ফয়সাল ইসলাম এফসিএ, আর্থিক খাতের বিশ্লেষক
[email protected]

Related Articles

Latest Posts