অস্থির পাকিস্তান দলে নতুন দুশ্চিন্তা, তৃতীয় টেস্টের আগে জ্বরে বাবর

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন একের পর এক দুঃসংবাদই আসছে। প্রথম দুই টেস্টে ভরাডুবির পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো, প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া মিলিয়ে যখন দলের ভেতরে চরম অস্থিরতা, তখন নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বাবর আজমের অসুস্থতা। তৃতীয় টেস্টের আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।

বাবরের অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করেছেন দলের ম্যানেজার নাভিদ আকরাম চিমা। জিও নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, জ্বর হলেও বাবরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা নেই তার এবং দ্রুতই সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। তৃতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে বলেই আশা করছে পাকিস্তান দল।

তবে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বাবর। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৮ ও ৬ রান। সেই ম্যাচে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে জোফরা আর্চারের শর্ট বলে যেভাবে আউট হয়েছেন বাবর, সেটি ইংলিশ পেসারদের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়েরই যেন প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।

এর আগে চোটের কারণে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি বাবর। তার অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলান সালমান আলী আগা। দ্বিতীয় টেস্টে ফিরলেও ব্যাট হাতে নিজের ছন্দ খুঁজে পাননি পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার।

অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাবর। দুই টেস্টের সিরিজে ১৯৩ রান করেছিলেন তিনি, যেখানে ছিল দুটি অর্ধশতক। যদিও পাকিস্তান সেই সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করে। ফলে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বাবরের প্রত্যাবর্তনও শুরু হয়েছিল মিশ্র ফলাফল দিয়ে।

তবে তার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা এখনো একটি টেস্ট শতকের জন্য। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রানের ইনিংস খেলার পর আর টেস্টে তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি বাবর। অর্থাৎ প্রায় চার বছর ধরে সাদা পোশাকে শতকের অপেক্ষায় আছেন পাকিস্তানের এই ব্যাটার।

এর মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও বড় বিতর্ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া এবং কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও কোচরা। অনেকেই বোর্ডের এই পদক্ষেপকে তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত এবং বিশৃঙ্খল পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই সিদ্ধান্তের জেরে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকেও পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাতে তার এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

এদিকে বোর্ড নিশ্চিত করেছে, সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একই সঙ্গে গত এপ্রিলে টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন পাকিস্তানের সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসন।
 

Related Articles

Latest Posts