লিওনেল মেসির বিদায় যেন আর্জেন্টিনা দলের অনেকের কাছেই একটি যুগের শেষের বার্তা। এবার সেই বিদায়ের প্রভাব নিজের ভবিষ্যতের ওপরও অনুভব করছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর সংঘর্ষে জড়িয়ে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এই আর্জেন্টাইন তারকা জানিয়েছেন, জাতীয় দলে আগের মতো চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
৩২ বছর বয়সী পারেদেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার পেছনে দুটি কারণ সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা এবং মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর মাঠে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন পারেদেস। এরপরই শুরু হয় শাস্তির প্রক্রিয়া।
আগস্টে সেই ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তার সতীর্থ নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধেও দুটি হামলার অভিযোগ আনা হয়। পারেদেস ও মোলিনা দুজনকেই ৯০ হাজার ডলার করে জরিমানাও করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মেসির বিদায় মিলিয়েই জাতীয় দল নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবতে হচ্ছে পারেদেসকে। মঙ্গলবার আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার থাকা কঠিন হয়ে যাবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে যেমন, তেমনি লিওর সিদ্ধান্তের কারণেও। সবকিছু আগের মতো চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।’
তবে জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে এ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পারেদেস, ‘আমি এখনো কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি। তবে আমরা কথা বলব এবং এরপর আমি কী সিদ্ধান্ত নেব, সেটি দেখব।’
পারেদেসের কথায় স্পষ্ট, মেসির অনুপস্থিতিই তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা দলকে কল্পনা করাটাই তার কাছে কঠিন।
মেসির উত্তরাধিকার নিয়ে পারেদেস বলেন, ‘লিওর উত্তরাধিকার চিরকাল বেঁচে থাকবে। সে যা অর্জন করেছে, কখনো হাল ছেড়ে দেয়নি এবং আমাদের দেখিয়েছে, স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন, তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণও করা যায়।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই মেসির অবসরের সম্ভাবনা নিয়ে সতীর্থদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান পারেদেস। কিন্তু বাস্তবে সেই মুহূর্তটি এলেও কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।
‘বিশ্বকাপের শেষ কয়েক দিনে আমরা কথা বলেছিলাম যে ফাইনালটি সম্ভবত তার শেষ ম্যাচ হবে। তারপরও আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, কারণ সে আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই এর কারণ,’ বলেন পারেদেস।
বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা দলে মেসির উপস্থিতি ছিল শুধু একজন অধিনায়ক বা তারকা হিসেবে নয়, বরং দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবেও। এখন তার অবসরের পর পারেদেসের মতো অভিজ্ঞদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। তার ওপর ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাতীয় দলে ফেরার পথও সহজ নয়।

