কদিন ধরেই রদ্রির ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার আলোচনা ছিল। নানান হিসাব-নিকাশের পর সেটাই এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। রদ্রিকে পেতে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা) খরচ করতে হয়েছে বার্সাকে।
বার্সার জানানো তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্লাবের মধ্যকার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন সমঝোতায় ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে কাতালান ক্লাবটির জার্সিতেই দেখা যাবে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে।
বিশ্বমানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত রদ্রি মূলত তার ট্যাকটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড, ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত এবং দুর্দান্ত পাসিং অ্যাবিলিটির জন্য ফুটবল বিশ্বে সমাদৃত। মাঠের খেলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে বল ছিনিয়ে নেওয়ায় তাকে এই সময়ের অন্যতম সেরা বিবেচনা করা হয়।
মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া এই স্প্যানিশ তারকা তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদের একাডেমি থেকে। পরবর্তীতে ভিয়ারিয়ালে খেলার পর ২০১৮ সালে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনে আতলেতিকো। দিয়েগো সিমিওনের অধীনে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর ২০১৯ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটিতে সাতটি মৌসুমে প্রায় ৩০০ ম্যাচ খেলে জয়ের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন রদ্রি। ক্লাবটির হয়ে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপসহ ১২টি বড় শিরোপার পাশাপাশি ২০২৩ সালে সিটিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই ফাইনালে তার করা একমাত্র গোলটিই ক্লাবটিকে এনে দিয়েছিল প্রথম ইউরোপিয়ান মুকুট।
জাতীয় দলের হয়েও সমান উজ্জ্বল রদ্রি। ২০২৪ সালে স্পেনকে ইউরো জেতাতে তিনি অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন, যা তাকে সেই বছরই ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর এনে দেয়। সাম্প্রতিক সময়েও আটজন বার্সা তারকাকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে তিনি ছিলেন মূল কাণ্ডারি, যেখানে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পেয়েছেন ‘গোল্ডেন বল’।
মাঠে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে এসে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার দারুণ এক ক্ষমতা আছে রদ্রির। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো ম্যাচের পরিস্থিতি অনুধাবন করার ক্ষমতা, যা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তারকাখ্যাতি পেলেও তার পেশাদারত্ব ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা যেকোনো দলের জন্যই বড় এক সম্পদ।

