ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বললেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ইরানকে সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে।’ বিবিসির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তাদের উচিত খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, নয়তো তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। হাতে সময় একেবারেই নেই!

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রোববারের নির্ধারিত আলোচনার প্রাক্কালে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কার্যকর বা সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আপস বা নমনীয়তা না দেখালে চলমান আলোচনা ‘অচলাবস্থার’ দিকে মোড় নিতে পারে।

এপ্রিলের শুরুর দিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান চুক্তিতে না এলে ‘একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। তার সর্বশেষ বার্তায় সেই হুমকিরই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন যে, চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ছিল ‘যৌক্তিক’ ও ‘উদার’।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ বলছে, তেহরানের প্রস্তাবে শর্তাদির মধ্যে ছিল—সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না—এমন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা পাওয়া।

খবর অনুযায়ী, তেহরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ রোববার জানায়, তেহরানের প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটন পাল্টা পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। জানা গেছে, এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক কেন্দ্র সচল রাখতে হবে এবং তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এদিকে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রধান বিবাদের বিষয়।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী। পরে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনা সত্ত্বেও মোটের ওপর কার্যকর রয়েছে।

তবে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ইরান জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

অন্যদিকে, নিজেদের শর্ত মানতে তেহরানকে বাধ্য করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও উভয় পক্ষের অবস্থান ও দাবির মধ্যে এখনো বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে।

Related Articles

Latest Posts