নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ও কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের নারী অধিকারকর্মীরা।
আজ রোববার সকালে আগারগাঁও এলাকায় র্যালি ও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সমাবেশে কর্মজীবী নারীকে অবমাননা এবং নারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে মর্যাদাহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, এনপিএ, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ফুলকি, বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র ও নারীপক্ষসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
এতে নারী অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। সিইসির কাছে তারা অভিযোগ করেন, নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে দলটির অবস্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধাচারণ।
প্রতিনিধিদল ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের সদ্য বহিষ্কৃত সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানের বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ চায়। একই সঙ্গে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার দাবি করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি কমিশনের মধ্যে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি প্রতিনিধিদলকে ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর মন্তব্য প্রকাশের পর তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। দলটি পরে দাবি করে, অ্যাকাউন্টটি ‘হ্যাক’ করা হয়েছিল।

