কিউবার ‘হুমকি’ খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

সম্প্রতি কিউবা ৩০০টিরও বেশি সশস্ত্র, সামরিক ড্রোন কিনেছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, এসব ড্রোনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে হাভানা। 

আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

মার্কিন গোপন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কিউবার হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গুয়ানতানামো উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি। 

১৯০৩ সালে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে এই গুয়ানতানামো উপসাগরের তীরবর্তী ১১৬ বর্গকিলোমিটার জায়গা ইজারা নেয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘গুয়ানতানামো বে’ নৌঘাঁটি ও কারাগারের অবস্থান।

দেশটির বর্তমান সরকার ২৩ বছর আগের ওই চুক্তি মানতে চাইছে না। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ওই কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছাড়তে আগ্রহী নয়।   

সামরিক পরিবহনেও হামলা চালাতে পারে কিউবা। তবে এই পরিবহনের ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। 

এমন কী, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যেও হামলার হুমকি আছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো এসব তথ্য প্রকাশ পায়। 

এমন সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল, যখন ওয়াশিংটন-হাভানার সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন চলছে। অনেকে জল্পনাকল্পনা করছেন, কমিউনিস্ট শাসনে পরিচালিত দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ছুতা খুঁজছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কাছ থেকে আসা সম্ভাব্য হামলার হুমকিকে গুরুত্বও সহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও হাভানায় ইরানের সামরিক বাহিনীর উপদেষ্টাদের সফর বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের এত কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি, জঙ্গি সংগঠন ও মাদক চক্রের অসাধু লোকজন এবং ইরান ও রাশিয়া থেকে আগত মানুষের আনাগোনা উদ্বেগজনক।’

২০২৩ সাল থেকেই ইরান ও রাশিয়ার কাছ থেকে ড্রোন কিনে যাচ্ছে কিউবা। অ্যাক্সিওসকে একাধিক সামরিক কর্মকর্তা জানান, কিউবা আরও ড্রোন কিনতে আগ্রহী। 

কয়েকদিন আগেই হাভানা সফর করেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন র‍্যাডক্লিফ। 

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে কিউবার বিরুদ্ধে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামালের সংকটে দেশটিতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। 

হাভানা সফরে র‍্যাডক্লিফ কিউবার কর্মকর্তাদের সহিংসতায় না জড়ানোর পরামর্শ দেন। 

এক অজ্ঞাতনামা সিআইএ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পরিচালক র‍্যডক্লিফ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। কিউবার ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাতে পারবে না।’ 

কমিউনিস্টশাসিত দ্বীপটি ষাটের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে আছে। অসংখ্যবার মার্কিন প্রশাসনে পরিবর্তন এলেও দুই দেশের সম্পর্কে তেমন উন্নতি হয়নি। 

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণে কিউবা থেকে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যাওয়া মানুষের একটি বড় ও প্রভাবশালী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। 

এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপটি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন। 

তিনি জানান, ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দ্বীপটির ওপর ‘অবিলম্বে’ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।  

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ‘উঠিয়ে’ আনার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন তার পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা। 

মার্কিন গণমাধ্যমেও এমন সংবাদ এসেছে। 

তাদের বয়ান, প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোকে (৯৪) বিচারের আওতায় আনতে চায় মার্কিন প্রশাসন।
 

Related Articles

Latest Posts