ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শ্মশানে আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরাঙ্গনা টেপরী রানিকে সমাহিত করা হয়েছে।
বার্ধক্যজনিত জটিলতায় গতকাল রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭১ বছর বয়সে টেপরী রানির মৃত্যু হয়। তিনি এক ছেলে রেখে গেছেন।
এর আগে রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম এবং পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের একটি দল নিয়ে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
একটি সাধারণ গ্রামীণ পরিবারে জন্ম নেওয়া টেপরী রানি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সদ্য বিবাহিত জীবন শুরু করেছিলেন। ঠিক তখনই নেমে আসে দুর্ভাগ্য।
সেই বছরের মে মাসে তাকে পাশের শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের একটি আশ্রয়স্থল থেকে তুলে নিয়ে রানীশংকৈল উপজেলার পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের মতে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানি বাহিনী এলাকা ছাড়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস তাকে শিয়ালডাঙ্গীর ওই ক্যাম্পে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও টেপরী রানিকে বছরের পর বছর সামাজিকভাবে কলঙ্ক ও অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়।
তার স্বামী তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা যায়। আর সমাজের অনেকেই যুদ্ধের সময় চালানো নির্যাতনের কারণে তাকে একঘরে করে রাখে।
তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সামাজিক বিদ্রূপ ও বৈষম্য সহ্য করে দৃঢ়তা ও মর্যাদার সঙ্গে তার ছেলেকে বড় করে তোলেন।
তার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অস্বীকৃতই ছিল। অবশেষে ২০১৭ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার নারীদের এ সম্মান দেওয়া হয়।
সামাজিক নিন্দা, বিদ্রূপ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে টেপরী রানিকে সম্মাননা প্রদান করে দ্য ডেইলি স্টার।

