সিনেটরকে ঘিরে ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে গুলির ঘটনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক অভিযুক্ত ফিলিপাইনের এক সিনেটর সিনেট ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পর বুধবার রাতে সেখানে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সিনেটর নিজেদের কক্ষে আশ্রয় নেন বলে জানিয়েছে এএফপির সাংবাদিকরা।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ানিতো ভিক্টর রেমুলা সাংবাদিকদের জানান, গোলাগুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। গুলি ছোড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, পলাতক সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা এখনও সিনেট ভবনের ভেতরেই আছেন। এএফপির সাংবাদিকরা জানান, তারা অন্তত পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছেন।

এসময় ভবনের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে গিয়ে এক টেলিভিশন সাংবাদিককে কাঁদতে দেখা যায়। আরেক সিনেটর রবিন পাডিলা সাংবাদিকদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিত সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা সিনেট কমপ্লেক্সে অবস্থান করলে এ ঘটনা ঘটে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসে পাঠানোর আশঙ্কা এড়াতেই তিনি সেখানে আশ্রয় নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমুলা বলেন, ‘দেলা রোসা নিরাপদে আছেন। তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গেই আছেন। আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছে। তাকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই।’

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সিনেট ভবনের ভেতরে বা আশপাশে থাকা সরকারি বাহিনী কোনো গুলি ছোড়েনি।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট বুধবার সরকারকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়ার পর দেলা রোসাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা কর্মকর্তাদের পিছু হটার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মার্কোস বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবাইকে শান্ত থাকতে বলা। আমরা ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করব এবং কারা এ বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী তাদেরও খুঁজে বের করব।’
এর আগে দেলা রোসা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে তাকে গ্রেপ্তার ও আইসিসির হাতে তুলে দেওয়া ঠেকানোর অনুরোধ জানান।

‘বাটো’ নামে পরিচিত দেলা রোসা ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় পুলিশ প্রধান ছিলেন। ওই সময়ই দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রথম ধাপ পরিচালিত হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের অনেকেই ছিলেন মাদকসেবী বা ছোট পর্যায়ের মাদক বিক্রেতা।

দেলা রোসার রাজনৈতিক নেতা দুতার্তকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে একই দিনে নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি দ্য হেগে বিচার শুরুর অপেক্ষায় আটক আছেন।

সোমবার সিনেটে এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটে অংশ নেওয়ার আগে পর্যন্ত গত নভেম্বরের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি দেলা রোসাকে। ওই ভোটে দুতার্তেপন্থীরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

গুলির ঘটনার কয়েক মিনিট আগে সিনেটর ভিসেন্তে সোট্টো এক বিবৃতিতে জানান, তিনি একা গাড়ি চালিয়ে সিনেট ভবন থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িতে পানির বোতল ছুড়ে মারে।

এর আগে বুধবার দেলা রোসা সেনাবাহিনীর প্রতি তাকে আটক করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তিনি সাবেক সহকর্মীদেরও প্রেসিডেন্ট মার্কোস সরকারের তাকে আইসিসির হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিফর্ম পরা সহকর্মীদের উচিত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা যে, সরকার যেন আমাকে বিদেশিদের হাতে তুলে না দেয়।’

দেলা রোসার মিত্র এবং সিনেট প্রেসিডেন্ট অ্যালান পিটার কায়েতানো আগে সরকারি কর্মকর্তাদের তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধা দিয়েছিলেন। ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি জানেন না কে গুলি চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গুলির শব্দ শুনেছি, কিন্তু কী হচ্ছে জানি না। সবাই এখন নিজ নিজ কক্ষে আটকে আছে। আমরা বের হতে পারছি না, অন্য কর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারছি না।’

সোমবার সিনেটে দেলা রোসাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা জাতীয় তদন্ত ব্যুরোর (এনবিআই) পরিচালক মেলভিন মাতিবাগ দাবি করেন, তাদের কোনো কর্মকর্তা গুলি চালাননি।

এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান স্থগিত ছিল। গুলির ঘটনার সময় সিনেট ভবনের ভেতরে কোনো এনবিআই সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।’

Related Articles

Latest Posts