বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল বলেছেন, তার মেয়াদে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো দল বাড়তি সুবিধা পাবে না। কোন দলকে এখন আর ‘কমিটির টিম’ বলার সুযোগ থাকবে না।
সোমবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে আম্পায়ারিং নিয়ে কথা বলার সময় তামিম বলেন, ‘এখন কোনো কমিটি টিম নেই, তাই না? কমিটি টিম এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, যেহেতু অতীতে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাই প্রতিপক্ষ দলগুলোও এর সুযোগ নেয়। এমনকি যখন কিছুই ঘটে না, যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, তাই অনেকেই এটি বলে থাকেন। আমি আশা করি আমার অধীনে কমিটি টিমের মতো কিছু ঘটবে না। সবাই সমান এবং সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।’
অসুস্থ বোধ করার কারণে সোমবার ডিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এই সময় তিনি জানান যে, বিসিবিতে কাজ করা পরিছন্নতা কর্মীদের পারিশ্রমিক পরিশোধে তিনি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন।
তামিম বলেন, ‘আমি একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মহিলার কাছে শুনলাম যে তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। গতকাল আমি বিসিবিতে গিয়ে জানতে পারলাম যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমি অবাক হয়েছিলাম। বিসিবির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে, তবে সিরিজের সময় বিসিবি টেন্ডারের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করে। যা ঘটে তা হলো, একটি কোম্পানি টেন্ডার পায় কিন্তু বিসিবির কর্মীরাই তখন ৩০-৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরবরাহ করে। কোম্পানিটি বিসিবির কাছ থেকে পেমেন্ট নেয় এবং তারপর তাদের মান অনুযায়ী কর্মীদের টাকা দিয়ে মুনাফা রেখে দেয়।’
তিনি জানান স্বচ্ছতা আনার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে বেতন প্রদান করতে হবে। বিসিবির অর্থ বিভাগে বেতন প্রদানের প্রমাণ জমা দিলেই কেবল বিলগুলো অনুমোদন করা হবে।
সাবেক অধিনায়ক থেকে বোর্ডের নেতৃত্বে আসা তামিম জানান, খেলোয়াড় হিসেবে অতীতে তিনি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সেই জায়গা থেকেই এখন কাজ করার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তার।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে বিসিবি সভাপতি হিসেবে শুধু আনন্দ করতে আসিনি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে আমি বাইরে থেকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি যদি এখন সেগুলো সংশোধন না করি, তবে আমার আগের কথাগুলোর কোনো মূল্য থাকবে না।’

