নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের বিক্ষোভ-অবরোধ

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত জেলা ও পৌর কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের সোনাপুর-বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজদী টাউন হল মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এ সময় চার লেন সড়কটির দুই পাশেই টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এতে সোনাপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ফেনী-লক্ষ্মীপুরগামী কয়েকশ দূরপাল্লার যাত্রী ও মালবাহী পরিবহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 

এরপর দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিতরা।

গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। ৩৭ সদস্যের এ কমিটিতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনবিএস রাসেলকে সভাপতি ও নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সংগঠনটির জেলা শাখার একাংশের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে কমিটির নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার বাসিন্দা নাছির উদ্দীন নাছির দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তার অনুগতদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই কমিটি গঠন করেছেন। পদপ্রাপ্তদের বৈবাহিক অবস্থা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। 

সমাবেশে বক্তারা জানান, অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা না হলে নোয়াখালী অচল করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে।

জেলা ছাত্রদলের নেতা আনোয়ার হোসেন রকি বলেন, ‘যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা নেই। জুনিয়র এক ছেলেকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ কমিটি ঘোষণা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। অযোগ্য লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের অনুসারী হওয়ায় আমাদেরকে বাদ দিয়ে অযোগ্যদের দিয়ে জেলা কমিটি দেওয়া হয়েছে। এটা অন্যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিপরীত দিকের এলাকায় দোকানপাটে পাথর নিক্ষেপ করছে একদল যুবক ও কিশোর। এ সময় তারা আগোরা সুপারশপে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলী আহাদ তানিব। বিক্ষোভ চলাকালে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের চাপে অতিরিক্ত যানজট দেখা দেয়।

যোগাযোগ করা হলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, বিক্ষোভকারীরা যে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। নিজেদের প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। 

তিনি আরও বলেন, আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্সের ছাত্র। বিগত ১৭ বছর যাবৎ আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৩ সালে শহর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক ছিলাম।

‘সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহানও মাস্টার্সের ছাত্র। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের রাজনৈতিক প্রোফাইল দেখেই কমিটি দিয়েছেন। কমিটির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয়,’ বলেন রাসেল।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মন্তব্য জানতে একাধিক বার কল করা ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, ‘নতুন কমিটিতে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী বাদ পড়েছে। এটা কোনো ব্যাপার না। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি যেহেতু নোয়াখালী, তাই তিনি নোয়াখালী এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করলে ভালো হয়। যারা ছাত্রদল করে সবাই, আমাদের কর্মী। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো অভিযোগও নেই।’

Related Articles

Latest Posts